বস্তা খুলতেই বেরিয়ে আসে শতাধিক আধার কার্ডের স্তূপ। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও কৌতূহল।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 6 November 2025 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) বিশেষ অভিযান চলাকালীন হঠাৎ করেই একের পর এক সরকারি নথি উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। বর্ধমান থেকে রাজগঞ্জ (Burdwan, Rajganj, )—দুই জেলাতেই একই ছবি। কোথাও পুকুরে ভাসছে আধার কার্ড (Aadhaar card), তো কোথাও সরকারি অফিসের পিছনের ঝোপে ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে শতাধিক বৈধ ভোটার কার্ড (Voter card)। প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে, আর রাজনীতিতে শুরু হয়েছে পুরোদস্তুর দফায় দফায় তরজা।
বৃহস্পতিবার সকালে বর্ধমানের লালিতপুর এলাকায় পুকুর পরিষ্কার করার সময় শ্রমিকরা একটি ভারী বস্তা দেখতে পান। বস্তা খুলতেই বেরিয়ে আসে শতাধিক আধার কার্ডের স্তূপ। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও কৌতূহল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আধার কার্ডগুলির অধিকাংশের ঠিকানা হামিদপুর ও পিলা এলাকার। সমস্ত কার্ড বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটি মোটেই দুর্ঘটনাজনিত নয় — পরিকল্পিতভাবে এই কার্ডগুলি ফেলা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় বিজেপি নেতা দেবব্রত মণ্ডলের অভিযোগ, “SIR প্রক্রিয়া শুরুর পরই এমন ঘটনা কাকতালীয় হতে পারে না। এর পিছনে বড় ষড়যন্ত্র আছে।” অন্যদিকে তৃণমূলের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “সম্ভবত এগুলি পুরনো বা ডুপ্লিকেট কার্ড, যেগুলি আগে অবৈধভাবে বানানো হয়েছিল। বিষয়টিকে বিজেপি অযথা রাজনৈতিক রঙ দিচ্ছে।”
এর মধ্যেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে। বিডিও অফিসের পিছনের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর বৈধ ভোটার কার্ড। ঘটনাটি সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁরা মাটিতে ছড়িয়ে থাকা কার্ড দেখতে পেয়ে খবর দেন পুলিশে। সাফাই কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁরা কিছুই জানেন না। তবে একটি সূত্রের দাবি, সম্প্রতি অফিস পরিষ্কার করার সময় পুরনো কাগজপত্রের সঙ্গে ভোটার কার্ডগুলিও ফেলে দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়—যে কার্ডগুলি উদ্ধার হয়েছে, সেগুলির EPIC নম্বর সম্পূর্ণ বৈধ, এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নামও মিলছে। অর্থাৎ এগুলি নকল নয়, বরং প্রকৃত ভোটার কার্ডই।
বর্ধমানের আধার কার্ড থেকে রাজগঞ্জের ভোটার কার্ড—দুটি ঘটনাই ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির দাবি, “এতে ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে।” তৃণমূলের অভিযোগ, “বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”
পুলিশ আপাতত উদ্ধার হওয়া সমস্ত নথি বাজেয়াপ্ত করেছে। কার্ডগুলি কোথা থেকে এল, কেন ফেলা হল, কার স্বার্থে এই কাজ—সবটাই এখন তদন্তের বিষয়।