
হুমায়ুন কবীর।
শেষ আপডেট: 13 March 2025 13:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বুধবার বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ওই ঘটনায় হুমায়ুনকে সতর্কও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তারপরও নিজস্ব মেজাজে হুমায়ুন। গোটা ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে এও বলেন, 'দলের থেকে আমার কমিউনিটি আগে'!
এদিন হুমায়ুন বলেন, "শুভেন্দু অধিকারী এত বড় একটা কথা (ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের মুসলিম বিধায়কদেরকে বিধানসভা থেকে ছুড়ে ফেলব) বলার পরও প্রশাসন চুপ। আমরা যখন কিছু বলি তখন প্রশাসন তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেয়। আর আজ প্রশাসন চুপ কেন? দলের থেকে আমার কমিউনিটি আগে, আমাদের কমিউনিটিতে এরকম কথা বললে আমরা ছেড়ে কথা বলব না।"
শাসকদলের বিধায়ক হিসেবে হুমায়ুন যেভাবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাতে নতুন করে শোরগোল তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী সাবধান করার পরও তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করায় দলী.য় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগও উঠেছে।
যদিও নিজস্ব মেজাজে হুমায়ুন বলেন, "এভাবে আমার কমিউনিটি নিয়ে কেউ বললে আমি তো চুপ থাকতে পারি না।" হুমায়ুন এও বলেন, "হয় শুভেন্দু অধিকারী নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করবে না হলে মুর্শিদাবাদে গেলে আমি বুঝে নেব।"
বস্তুত, শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির পর হুমায়ুনের পাশাপাশি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীও আক্রমণ করেছিলেন বিরোধী দলনেতাকে। যার জেরে বুধবার বিধানসভার সচিবকে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। অধিবেশনেও ওই প্রসঙ্গটি উঠলে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছিলেন, এই ধরনের মন্তব্য না করার জন্য তিনি হুমায়ুন এবং সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে সতর্ক করেছেন। তারপরও হুমায়ুন নিজস্ব মেজাজে অনড় থাকায় দল তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করে কিনা, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই প্রথম নয, এর আগেও একাধিকবার দলের নীতির বাইরে গিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে।