মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক সভায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। তবে আজ সেখানে ঢোকার মুখেই শোনেন দল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার খবর!

হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 4 December 2025 12:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রশাসনিক সভায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। তবে আজ সেখানে ঢোকার মুখেই শোনেন দল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার খবর! তারপর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াতেই হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন। বললেন - কালই রিজাইন করে দেবেন এবং মুর্শিদাবাদেই (Mursidabad) নিজের নতুন দল বানাবেন।
আগামী ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে নিজের দলের (Own Party) ঘোষণা করবেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই তাঁর হুঙ্কার - তৃণমূল, বিজেপি সবার বিরুদ্ধে লড়ব, ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেব। কে কী করতে পারে দেখে নেব।
মূল বিতর্ক, হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ (Babri Masjid) নিয়ে মন্তব্য। তিনি মুর্শিদাবাদে এই নামের মসজিদ তৈরি করার কথা বলেছিলেন। শুধু তাই নয়, ৬ ডিসেম্বরই তার শিলান্যাস করার ঘোষণা করেছিলেন। এই নিয়ে হইচই তৈরি হওয়ার পরই তৃণমূল (TMC) হুমায়ুনের থেকে দূরত্ব তৈরি করে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে ফিরহাদ (Firhad Hakim) জানান, ৩ বার তাঁকে শোকজ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টায়নি। তাই দল থেকে এবার তাঁকে সাসপেন্ড করা হল।
ফিরহাদের বক্তব্য - বিজেপির হয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন হুমায়ুন। দলবিরোধী কার্যকলাপ রয়েছে তাঁর। এর আগেও ২০১৯-এ বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁর কটাক্ষ, বিজেপির হাতে তামাক খাচ্ছেন হুমায়ুন। কেন 'বাবরি মসজিদ' তৈরি করতে চাইছেন হুমায়ুন, সেই প্রশ্নও তোলেন ফিরহাদ হাকিম। বলেন, উনি তো বাবা বা মায়ের নামেও মসজিদ করতে পারতেন।
হুমায়ুন এবং তাঁর নানা মন্তব্যকে কার্যত তুলোধনা করে ফিরহাদ বলেন, কখনও বলছে কেঁটে গঙ্গায় ফেলে দেব, কখনও বলছে বাবরি মসজিদ করব। এটা কি হনুমানের রাজত্ব? আমরা ভাগাভাগির রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। কেউ ধর্মস্থান তৈরি করতেই পারেন, আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু তার মধ্যে উস্কানি থাকবে না।
প্রসঙ্গত, বুধবারই হুমায়ুন কবীরকে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়ে রাজ্যকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (Governor Anand Bose)। বলেছিলেন, রাজ্য পদক্ষেপ না করলে তিনিই করবেন। বাবরি মসজিদ মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন রাজ্যপাল। দেখা গেল, তারই চিঠি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টায় মধ্যে পদক্ষেপ করল তৃণমূল কংগ্রেস।
গত কয়েক মাস ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এই ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক। কখনও প্রকাশ্যে তোপ দেগে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেছেন, কখনও জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। এমনকী নতুন দল গঠনের কথাও ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন।
তাতেও থামেননি। আগামী ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের কর্মসূচি ঘোষণা করে রীতিমতো প্রশাসনের সাথে সংঘাতে জড়িয়েছেন তিনি। অভিযোগ, বাধা দেওয়া হচ্ছে তাঁর উদ্যোগে। তার জেরে জাতীয় সড়ক অবরোধের ডাক, সঙ্গে এসডিপিও-র ‘কলার ধরার’ হুঁশিয়ারি - সব মিলিয়ে নিরাপত্তা মহলে অস্বস্তি বাড়ছিলই।