তৃণমূল কংগ্রেস সাসপেন্ড করল হুমায়ুন কবীরকে। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘোষণা করেন ফিরহাদ হাকিম।

হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 4 December 2025 11:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলবিরোধী মন্তব্য, একাধিকবার সতর্ক করা হলেও নিজেকে বদলাননি - এই অভিযোগে এবার তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সাসপেন্ড (Suspend) করল হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir)। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘোষণা করেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)।
মূল বিতর্ক, হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ নিয়ে মন্তব্য। তিনি মুর্শিদাবাদে (Mursidabad) এই নামের মসজিদ (Babri Masjid) তৈরি করার কথা বলেছিলেন। শুধু তাই নয়, ৬ ডিসেম্বরই তার শিলান্যাস করার ঘোষণা করেছিলেন। এই নিয়ে হইচই তৈরি হওয়ার পরই তৃণমূল হুমায়ুনের থেকে দূরত্ব তৈরি করে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে ফিরহাদ জানান, ৩ বার তাঁকে শোকজ (Show Cause) করা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টায়নি। তাই দল থেকে এবার তাঁকে সাসপেন্ড করা হল।
ফিরহাদের বক্তব্য - বিজেপির (BJP) হয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন হুমায়ুন। দলবিরোধী কার্যকলাপ রয়েছে তাঁর। এর আগেও ২০১৯-এ বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁর কটাক্ষ, বিজেপির হাতে তামাক খাচ্ছেন হুমায়ূন। কেন 'বাবরি মসজিদ' তৈরি করতে চাইছেন হুমায়ুন, সেই প্রশ্নও তোলেন ফিরহাদ হাকিম। বলেন, উনি তো বাবা বা মায়ের নামেও মসজিদ করতে পারতেন।
হুমায়ুন এবং তাঁর নানা মন্তব্যকে কার্যত তুলোধনা করে ফিরহাদ বলেন, কখনও বলছে কেঁটে গঙ্গায় ফেলে দেব, কখনও বলছে বাবরি মসজিদ করব। এটা কি হনুমানের রাজত্ব? আমরা ভাগাভাগির রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। কেউ ধর্মস্থান তৈরি করতেই পারেন, আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু তার মধ্যে উস্কানি থাকবে না।
তিনি স্পষ্ট করেন, দলের নীতিই হল ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। রাজ্যে এইভাবে কমিউনাল পলিটিক্স চলবে না! এই প্রসঙ্গে ফিরহাদের এও অভিযোগ, রাজ্যের শান্ত পরিবেশকে নষ্ট করার জন্য এইসব বিজেপির টাকায় হচ্ছে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর (CM Mamata Banerjee, Meeting) বৃহস্পতিবারের প্রশাসনিক সভার আমন্ত্রণপত্র গেছিল হুমায়ুন কবীরের হাতে। তিনি জানিয়েছিলেন, এই সভায় যাবেন। যদিও খবর, মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় ঢুকেছিলেন হুমায়ুন, তবে সাসপেন্ড হওয়ার খবর শোনার পর বেরিয়ে যান।
গত কয়েক মাস ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এই ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক। কখনও প্রকাশ্যে তোপ দেগে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেছেন, কখনও জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। এমনকি নতুন দল গঠনের কথাও ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন।
তাতেও থামেননি। আগামী ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের কর্মসূচি ঘোষণা করে রীতিমতো প্রশাসনের সাথে সংঘাতে জড়িয়েছেন তিনি। অভিযোগ, বাধা দেওয়া হচ্ছে তাঁর উদ্যোগে। তার জেরে জাতীয় সড়ক অবরোধের ডাক, সঙ্গে এসডিপিও-র ‘কলার ধরার’ হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে নিরাপত্তা মহলে অস্বস্তি বাড়ছিল। অবশেষে দল সাসপেন্ডই করে দিল তাঁকে।