রাজ্যের বিশাল সংখ্যক বিধায়ক এমন নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। এর আগে পঞ্চায়েত নির্বাচনে যখন অশান্তি তৈরি হয়েছিল, তখন নওসাদ সিদ্দিকিও কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছিলেন।
.jpeg.webp)
হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 29 December 2025 21:21
তৃণমূল (TMC) থেকে নিলম্বিত হয়ে নতুন দল গড়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। ২৬-এর নির্বাচনের আগে সমস্তটা গুছিয়ে ভোটে লড়তে চলেছেন তিনি। শত কাজের মাঝে এখন যদি নিজেকেই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয়, তাহলে মুশকিল (West Bengal News)। এতদিন তিন পুলিশকর্মীর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকছিলেন বটে, কিন্তু এযাবৎ আর তাতে হচ্ছে না। যে কারণে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন হাইকোর্টে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে আবেদন করবেন। সোমবার তিনি নিজেই সে কথা জানালেন, একমাত্র দ্য ওয়ালকে (The Wall)।
রাজ্যের বিশাল সংখ্যক বিধায়ক এমন নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। এর আগে পঞ্চায়েত নির্বাচনে যখন অশান্তি তৈরি হয়েছিল, তখন নওসাদ সিদ্দিকিও (Naushad Siddiqui) কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, ভাঙড়ের পরিস্থিতি, প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা বিচার বিবেচনা করে তাঁর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হোক। আবেদনে সাড়া দিয়েছিল উচ্চ আদালত। এবার সেই একই পথে হাঁটতে চলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, হুমায়ুনের কেন দরকার পড়ল কেন্দ্রীয় বাহিনীর?
প্রথমত, তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর থেকে বারবার হুমকি পাচ্ছেন হুমায়ুন। তার উপর মসজিদ নির্মাণ নিয়ে তো ধমক-চমক রয়েইছে। এখন আবার নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে তাঁর নিজের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশকর্মীদের নিয়ে।
ঘটনা রোববার সকালের। হুমায়ুন যখন নিজের বাড়ির অফিসঘরে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা লোকজনের সঙ্গে নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন ওই তিন পুলিশকর্মীর মধ্যে থেকে একজন (জুম্মা) হঠাৎ বিধায়কের অফিসে ঢুকে পড়েন। ‘কী দরকার’ জিজ্ঞাসা করায় ওই পুলিশকর্মী জানান, তাঁর ছুটি প্রয়োজন।
হুমায়ুন আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন বলেই শুরু হয় দু'জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে অন্য ঘর থেকে বাবার অফিসে হাজির হন হুমায়ুনপুত্র।
তার পর দুই তরফের মধ্যে গন্ডগোল, ধস্তাধস্তি। হুমায়ুন জানিয়েছিলেন ওই নিরাপত্তারক্ষী তাঁদের আক্রমণ করেছেন। অন্য দিকে, পুলিশকর্মীর দাবি হুমায়ুনের ছেলে তাঁর গায়ে হাত তুলেছেন। এরপর তো দু-তরফের আকচাআকচি আছেই। কাজেই এখন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আর ঢিলেমি দিতে নারাজ তিনি।
এদিন দ্য ওয়ালকে হুমায়ুন বলেন, "ওই তিনজন নিরাপত্তারক্ষীর একজন, যাঁকে নিয়ে এত কথা, তিনি প্রায়ই ছুটিতে থাকেন। অন্যদিকে, বাকি দু'জনের যেটুকু কাজ, তাঁরা নিরাপত্তা না দিয়ে ফোন ঘাঁটেন, ভিড়ের মধ্যে পড়ে গেলে দু'মিটার দূরে থাকেন।" হুমায়ুন কবীরের দাবি, নিরাপত্তারক্ষীদের যা কাজ, তা তাঁরা করেন না। যে কারণে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে হাইকোর্টে যাবেন, এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর আবেদন করবেন।