বাজেট অধিবেশনে দেখা গেল, হুমায়ুনের আসনে কোনও বদল হয়নি। তিনি আগের মতোই শাসক দলের বিধায়কদের মাঝেই বসেন।
.jpeg.webp)
হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 3 February 2026 14:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাসক দলের বিধায়কদের সারিতেই আপাতত আসন পেলেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। ডিসেম্বর মাসে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) থেকে সাসপেন্ড করা হয় ভরতপুরের এই বিধায়ককে (Bharatpur)। তার পরেই তিনি ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (JUP) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গড়েন। সেই সময় থেকেই জল্পনা চলছিল, দলত্যাগের পর বিধানসভায় তাঁর আসনবিন্যাসে কোনও পরিবর্তন হয় কি না।
তবে বাজেট অধিবেশনে দেখা গেল, হুমায়ুনের আসনে কোনও বদল হয়নি। তিনি আগের মতোই শাসক দলের বিধায়কদের মাঝেই বসেন। হুমায়ুনের ডানদিকে ছিলেন কেতুগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক শাহনাওয়াজ খান এবং বাঁদিকে ছিলেন মন্দিরবাজার বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক জয়দেব হালদার।
এর আগে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, বিধায়ক পদে বহাল থাকলেও ভবিষ্যতে হুমায়ুন কবীরকে বিধানসভায় তৃণমূল ও বিজেপির মাঝামাঝি কোনও নিরপেক্ষ আসনে বসানো হতে পারে। বিমান জানিয়েছিলেন, হুমায়ুন কবীর যদি তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে আসেন এবং তা আইনসঙ্গত হয়, তা হলে তিনি তা গ্রহণ করবেন। কিন্তু হুমায়ুন পদত্যাগ করেননি। তাঁকে দল সাসপেন্ড করেছে। দলের তরফে চিঠি এলে তাঁকে আর তৃণমূল বা বিজেপি— কোনও দলের সদস্য বলেই গণ্য করা হবে না। তখন তাঁকে একটি নিরপেক্ষ জায়গায় বসানো হবে।
যদিও মঙ্গলবার দেখা গেল, শাসক দলের বিধায়কদের সারিতেই আপাতত আসন পেলেন হুমায়ুন কবীর।
গত বছরের ৪ ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ছয় বছরের জন্য নিলম্বিত করা হয় ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে। তার কিছু দিনের মধ্যেই তিনি ঘোষণা করেন নিজের নতুন রাজনৈতিক দল— জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি)।
হুমায়ুনের রাজনৈতিক যাত্রাপথ বেশ ওঠানামায় ভরা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। নিজের পছন্দের কেন্দ্র রেজিনগরের বদলে তৃণমূল তাঁকে প্রার্থী করে ভরতপুর আসনে। সেখানে কংগ্রেসের তৎকালীন বিধায়ক কমলেশ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে প্রথম বার বিধানসভায় প্রবেশ করেন হুমায়ুন।
দ্বিতীয় বার বিধায়ক হওয়ার পর বিধানসভা অধিবেশনে ব্লক-৬-এর ২০৯ নম্বর আসনটি তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। কিন্তু সেই সময় থেকেই একের পর এক দলবিরোধী মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ান তিনি। একাধিক বার শো-কজ় নোটিস দেওয়া হলেও তাঁর আচরণে বিশেষ পরিবর্তন দেখা যায়নি।
গত বছর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন আচমকাই হুমায়ুন ঘোষণা করেন, বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণ করবেন তিনি। সেই উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহের কাজও শুরু হয়। সমাজমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে মসজিদ নির্মাণের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা হতে থাকে। এমনকি ৬ ডিসেম্বর— বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনটিকেই বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের দিন হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি। এই ঘোষণার পরই সাংবাদিক বৈঠক করে ৪ ডিসেম্বর তাঁকে ছয় বছরের জন্য তৃণমূল থেকে নিলম্বিত করার কথা জানান ফিরহাদ হাকিম।
এর পর ২২ ডিসেম্বর বেলডাঙায় একটি জনসভা করে নিজের নতুন রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন হুমায়ুন। তৃণমূল থেকে নিলম্বিত হওয়ায় জল্পনা তৈরি হয়, তৃণমূল পরিষদীয় দল কি না বিধানসভার সচিবালয়ের কাছে আবেদন করে তাঁর আসন শাসক দলের ব্লক থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে। তবে তৃণমূল পরিষদীয় দল সূত্রে জানা যাচ্ছে, এমন কোনও আবেদন করার পরিকল্পনা নেই। ফলে আপাতত বিধানসভায় নিজের বরাদ্দ করা আসনেই বসতে হবে হুমায়ুন কবীরকে।