দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরু বরফের স্তরে ঢেকে গেছে রাস্তা। বরফ ভেঙে চড়াই-উতরাই পথে এগিয়ে চলেছেন জনা ৪০ জওয়ান। আপাদমস্তক কম্বল মুড়ি দেওয়া এক মহিলাকে কাঁধে চাপিয়ে তীব্র তুষারপাত উপেক্ষা করে এগিয়ে চলেছেন জওয়ানরা। প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছেন মহিলা। প্রায় ৪ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে মহিলাকে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দিলেন জওয়ানরা। তুষারধসে বিধ্বস্ত কাশ্মীরে ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন যুবতী।
ভারী তুষারপাতে বিপন্ন কাশ্মীরের জনজীবন। বরফ ও ধসের কারণে বন্ধ রাস্তাঘাট। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানোর চেষ্টা করছেন জওয়ানরা। বরফে চাপা পড়ে নিখোঁজ বহু মানুষ। এরই মধ্যে গতকাল সকালে প্রসব যন্ত্রণা ওঠে শামিমা নামে এক কাশ্মীরি যুবতীর। বেশিরভাগ হাসপাতাল বন্ধ, অ্যাম্বুলেন্সও অমিল। এমন অবস্থায় প্রসূতীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেন ৪০ চিনার কোরের জওয়ানরা। গদি, কম্বল দিয়ে স্ট্রেচার বানিয়ে তাতে চাপিয়ে যুবতীকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।
সেনা সূত্রে খবর, অন্তঃসত্ত্বা যুবতীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ও তাঁর দেখভাল করার জন্য ৪০ চিনার কোরের অন্তত ১০০ জওয়ান সেদিন হাজির হয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গ দিয়েছিলেন স্থানীয়রাও। বিরূপ আবহাওয়া, বিপদের ঝুঁকি, তুষারধসের আশঙ্কা— কোনও কিছুকেই তোয়াক্কা করেননি জওয়ানরা।
https://twitter.com/narendramodi/status/1217312604189671425?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1217312604189671425&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.timesnownews.com%2Findia%2Farticle%2Fhumanitarian-spirit-40-jawans-escort-pregnant-woman-to-hospital-through-heavy-snow-pm-modi-lauds-indian-army%2F540410
‘মানবিকতার অনন্য নিদর্শন’, সেনা জওয়ানদের প্রশংসায় ভরে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল। ৭২ তম সেনা দিবসের সকালে, প্রসূতিকে এইভাবে কাঁধে চাপিয়ে সেনা জওয়ানদের বরফ ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার ভিডিও টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতীয় সেনাবাহিনীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে টুইটারে মোদী লিখেছেন, ‘‘কর্তব্যপরায়ণতা, সাহস ও মানবিকতার জন্যই পরিচিত ভারতীয় সেনাবাহিনী। তাদের কর্তব্যনিষ্ঠাকে শ্রদ্ধা জানাই। যখনই সাধারণ মানুষের সাহায্য দরকার হয়, সেখানে তুরন্ত পৌঁছে যায় সেনা। যে কোনও অসম্ভবকে সম্ভব করে দেয় নির্ধিদ্ধায়।’’
গত দু’দিন ধরে উত্তর কাশ্মীরের গুরেজ, বান্দিপোড়া, কুপওয়ারা, নওগাম এবং বারমুলার মতো এলাকাগুলি কয়েক ফুট বরফের নীচে চাপা পড়ে গেছে। তাপমাত্রা নেমেছে হিমাঙ্কের নীচে। এখনও অবধি ৩২টিরও বেশি এলাকায় তুষারধসের খবর মিলেছে। সোমবারই সন্ধে সাড়ে আটটা নাগাদ নওগাম সেক্টরে তীব্র তুষারধসে আটকে পড়েন সাত সেনা জওয়ান। তাঁদের মধ্যে একজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সেনা সূত্র জানাচ্ছে, চূড়ান্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করতে হচ্ছে জওয়ানদের। একদিকে এই শীতের সময়েই জঙ্গি অনুপ্রবেশের আশঙ্কা কয়েকগুণ বাড়ে, তারপরে তুষারপাতের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত। বরফ ভেঙেই টহলদারি দিতে হচ্ছে জওয়ানদের। কিন্তু কর্তব্যে সামান্যতম ত্রুটিও দেখা যায়নি সেনা জওয়ানদের, গতকালে ঘটনাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।