
শেষ আপডেট: 9 June 2020 18:30
শুক্রাণু-ডিম্বানুর এই বোঝাপড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছে স্টকহোম ইউনিভার্সিটি ও ম্যাঞ্চেস্টার ইউনিভার্সিটির এনএইচএস ফাউন্ডেশন। গবেষকরা বলছেন, ডিম্বানুরও ‘চয়েস’ আছে। নিষিক্ত হওয়ার আগে সেও ঝাড়ই বাছাই করে মনের মতো শুক্রাণুকে পছন্দ করে নেয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সবসময় যে সঙ্গীর শুক্রাণুই পছন্দ হবে এমনটা নাও হতে পারে। সেখানেও টুইস্ট আছে। যদিও এই পর্যবেক্ষণ এখনও গবেষণার স্তরেই আছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডিম্বানুদের এই পছন্দের তালিকা যদি নাগালে এসে যায় তাহলে বন্ধ্যাত্ব রোধের চিকিৎসায় অনেক উন্নতি হবে। ‘রয়্যাল সোসাইটি বি’ সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা।
তাহলে ঠিক কেমন শুক্রাণু পছন্দ? স্টকহোম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জন ফিৎজপ্যাট্রিক রয়েছেন এই গবেষণার নেতৃত্বে। তিনি বলেছেন, ডিম্বানুরা একটি বিশেষ রাসায়নিক সঙ্কেত পাঠিয়ে শুক্রাণুদের আকর্ষণ করে। তার জন্য একটি রাসায়নিক উপাদান তারা ছড়িয়ে দেয়। এর নাম কেমোঅ্যাট্রাকটান্টস (Chemoattractants) । এই রাসায়নিক শুক্রাণুদের কাছে টেনে আনে। জন বলছেন, ডিম্বানুর চারদিকে যে ফলিকিউলার ফ্লুইড থাকে তার মধ্যেই এই কেমোঅ্যাট্রাকটান্টসরা চুপচাপ বসে থাকে। শুক্রাণু শরীরে ঢুকলেই এরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তখনই শুক্রাণু ও ডিম্বানুর মধ্যে একটা বোঝাপড়া শুরু হয়ে যায়। যেহেতু শুক্রাণুরা সংখ্যায় অনেক বেশি এবং একটি ডিম্বানুকেই নিষিক্ত করতে হবে, তাই তাদের বেছে নেওয়ার অন্য উপায় থাকে না। সেই সুবিধাই নেয় ডিম্বানু।
গবেষকরা বলছেন, এই রাসায়নিক ছড়িয়ে শুক্রাণুদের সঙ্কেত পাঠায় ডিম্বানু। তারপর চলে বাছাই পর্ব। সেন্ট মেরিজ হাসপাতালের রিপ্রোডাকটিভ মেডিসিন বিভাগের গবেষক ড্যানিয়েল ব্রিসন বলেছেন, ডিম্বানুদের এই বেছে নেওয়ার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েই নতুন গবেষণার পথে যাওয়া যাবে। বন্ধ্যাত্ব দূর করার রাস্তা খুঁজে পাওয়া যাবে। শারীরিকভাবে সক্ষম দম্পতিরাও অনেক সময় সন্তানের জন্ম দিতে অসমর্থ হন। নানা রকম জটিলতা দেখা যায়। এর কারণ এবং চিকিৎসার পথও অনেক সহজ হবে বলে জানিয়েছেন গবেষক ড্যানিয়েল।