
শেষ আপডেট: 12 November 2020 18:30
লন্ডনে অ্যাস্ট্রাজেনেকার গ্লোবাল হেডকোয়ার্টার[/caption]
অ্যাস্ট্রজেনেকার সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে বছরে ১০০ কোটি টিকার ডোজ তৈরি করবে সেরাম। পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, তাঁর সংস্থায় তৈরি টিকার প্রাথমিক অংশ আপাতত ভারতে ব্যবহারের জন্যই তৈরি হবে। তবে আগামী বছরের গোড়ায় টিকার ৫০ শতাংশ থাকবে ভারতের জন্য বাকি ৫০ শতাংশ কোভ্যাক্স ভ্যাকসিন বিতরণ কর্মসূচীতে গরিব দেশগুলিতে বিতরণ করা হবে।
অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকা ছাড়াও আরও পাঁচটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে সেরাম। কোভিশিল্ড টিকার পাশাপাশি আরও চার রকমের টিকার ডোজ তৈরি করছে সেরাম ইনস্টিটিউট। সিইও বলেছেন, কোভোভ্যাক্স, কোভিভ্যাক্স, কোভি-ভ্যাক ও এসআইআই কোভ্যাক্স টিকার সেফটি ট্রায়াল করা হচ্ছে। এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট গুলি সুরক্ষিত প্রমাণিত হলেই মানুষের শরীরে প্রয়োগ শুরু হবে। সব মিলিয়ে একুশ থেকে বাইশ সালের মধ্যে করোনা টিকার প্রায় ১০০ কোটি ডোজ চলে আসবে ভারতের বাজারে। সেরাম কর্তা পুনাওয়ালা বলেছেন, ফাইজারের টিকা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে যে পরিকঠামো ভারতের কোল্ড স্টোরেজগুলির নেই। এই মুহূর্তে সেই পরিকাঠামো তৈরি সম্ভবও নয়। সেদিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা। কারণ এই টিকা কোল্ড স্টোরেজের নির্ধারিত তাপমাত্রাতেই ভাল থাকবে।
বিশ্বজুড়ে যত রকম কোভিড ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে তার মধ্যে এগিয়েই রয়েছে অক্সফোর্ড। সেই এপ্রিল মাস থেকে অক্সফোর্ড টিকার প্রতিটি পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্ট আশা জাগিয়েছে। মাঝে অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকায় এক স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা সামনে আসায় কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে অক্সফোর্ড জানিয়েছিল, টিকার ডোজে কোনওরকম রোগ দেখা যায়নি। কারণ দাবি ছিল, মহিলা স্বেচ্ছাসেবক যে ধরনের স্নায়ুর রোগে আক্রান্ত, তা অক্সফোর্ডের তৈরি ডিএনএ ভেক্টর ভ্যাকসিনের ডোজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হওয়া সম্ভব নয়। কাজেই টিকা যে সুরক্ষিত সেটা প্রমাণ করে অক্সফোর্ড।
জেন্নার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের সাহায্যে ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) টেকনোলজি ব্যবহার করে ভেক্টর ভ্যাকসিন ChAdOx1 nCoV-19 ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছে অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্টের টিম। ভারতে অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় কোভিশিল্ট টিকা তৈরি করেছে সেরাম। পুনাওয়ালা বলেছেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল চলছে দেশের ১৫টি জায়গায়। টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ফল এখনও অবধি বেশ ভাল। কোনও জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর আসেনি। সেরাম কর্তা আরও বলেন, টিকার দামও রাখা হবে সাধ্যের মধ্যেই। আদর পুনাওয়ালা আগেও বলেছিলেন, ভ্যাকসিন ডোজের দাম হবে তিন ডলারের মধ্যে। অর্থাৎ ভারতীয় মূদ্রায় যা প্রায় ২২৫ টাকা। ভারত তো বটেই বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে এই ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া হবে। সেরামের কোভিশিল্ড টিকার দাম যাতে কম থাকে তার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মাইক্রোসফট কর্তা বিল গেটস। জানিয়েছিলেন, ভ্যাকসিনের ডোজ পিছু দাম যাতে ৩ ডলারের মধ্যে থাকে তার জন্য তিনি ১৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ করবেন। তাছাড়া ভারতে তৈরি করোনার ভ্যাকসিন বিশ্বের সব দেশে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গত অগস্টেই প্রাথমিকভাবে চুক্তি সেরে রেখেছিল গাভি। এই চুক্তির ভিত্তিতে বছরে ১০০ কোটি টিকার ডোজ তৈরি করবে বলে জানিয়েছিল সেরাম।