
আন্দুলের কুন্ডু চৌধুরী বাড়ির রাস
শেষ আপডেট: 15 November 2024 18:15
দেবাশিস গুছাইত, হাওড়া
সকাল থেকে তুমুল ব্যস্ততা আন্দুলের কুন্ডু চৌধুরীদের জমিদার বাড়িতে। রাস উৎসব যে! প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো এই পরিবারের রাস। আগের মতো জৌলুস হয়তো নেই, কিন্তু নিষ্ঠায় ঘাটতি পড়েনি। আচার মেনে আজও পরিবারে ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন পরিবারের সদস্যরা।
নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্যদেবের রাস উৎসব পালনের কথা শোনা যায়। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সময়ের পরবর্তীকালে বাংলায় রাস উৎসবের প্রচলন ঘটে। মূলত বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের উৎসব। তবে নবদ্বীপের জনসমাজ ও ধর্ম-সংস্কৃতিতে বহু প্রাচীনকাল থেকেই তন্ত্রচর্চার প্রাধান্য দেখা যাওয়ায় শাক্তরাসের চাপে বৈষ্ণবীয় রাসের সাত্ত্বিক ধারা অনেকসময় কোণঠাসা হয়েছে। তবে তা শুধু নবদ্বীপেই। অন্যত্র বৈষ্ণব ভাবধারায় শ্রীকৃষ্ণের প্রেম প্রকৃতির উৎসবই হল রাস উৎসব।
আন্দুলের কুন্ডু চৌধুরী পরিবারের সদস্য অমিতাভ কুন্ডু চৌধুরী জানান, তাঁদের পরিবারের রাস উৎসবের বয়স প্রায় ৩০০ বছর। আগে রাসের সময় মাঠ জুড়ে বিভিন্ন পুতুলের পসরা বসত। মেলা বসত। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। পুতুল নাচ হতো। তখন এই রাস উৎসব এক মাস ধরে চলত। দুর্গাপূজার পর থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হতো রাস উৎসবের জন্য। তিনি বলেন, "কুমোরটুলি থেকে শিল্পী আসতেন বিভিন্ন ঠাকুরের মূর্তি তৈরির জন্য। আমাদেরই বাড়ির এক চালায় বিভিন্ন মূর্তি তৈরি হতো। দূর দূরান্ত থেকে মানুষজন আসতেন রাস উৎসবে। ডোমজুড়, বেগড়ি ,আমতা, রানিহাটি, শহরাঞ্চলের মধ্যে শিবপুর, রামতলা, সাঁতরাগাছি, থেকে আসতেন বহু লোক। তখন এত যানবাহন ছিল না। মানুষ হেঁটেই আসতেন।"
এখন আর জমিদারি নেই। বাড়ির উঠোনেই রাস উৎসব করা হয়। এখন কালীপুজো থেকে রাস উৎসবের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। রামায়ণ মহাভারতের চরিত্রদের বেছে নিয়ে নানাধরণের পুতুল তৈরি হয়। জমিদার বাড়ির কুলদেবতা লক্ষ্মী জনার্দন নারায়ণ শিলাকে এই রাস পূর্ণিমা তিথিতে ঠাকুর দালানে সিংহাসনে বসিয়ে পুজো করা হয়। তিনদিন রাত্রি যাপন করেন কুলদেবতা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আগে একটা সময়ে এক মাস ধরে এই রাস উৎসব চললেও এখন ১০ থেকে ১২ দিন উৎসব পালন করা হয়। মেলা এখন আর এই পরিবারের হাতে নেই। নির্দিষ্ট একটি কমিটির উপর রাস মেলার দায়িত্ব। আগামী দিনেও এই রাস উৎসব পরবর্তী প্রজন্ম যাতে চালিয়ে নিয়ে যেতে পারে তার জন্য ট্রাস্ট তৈরি করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই চলেছে প্রস্তুতি।রাত ৯ টা থেকে শুরু হবে পুজো।