
সারহুল উৎসবে মেতেছেন জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ
শেষ আপডেট: 7 April 2025 15:49
দেবাশিস গুছাইত, হাওড়া
বাঙালির নববর্ষ মানেই হালখাতা, নতুন জামাকাপড় আর ভূরিভোজ। এরই পাশাপাশি বনস্পতির আরাধনা করে নববর্ষের উৎসবে মাতলেন জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ। হাওড়ায় অনুষ্ঠিত হল অভিনব ‘সারহুল’ উৎসব। বাঁকড়া দক্ষিণ পল্লী এলাকায় জনজাতি সম্প্রদায়ের নতুন বছর শুরু হল একেবারে অন্যভাবে। বনস্পতির পুজো দিয়ে, প্রকৃতিকে সম্মান জানিয়ে। শাল, মহুয়া গাছকে পুজো করাই রীতি, তবে এদিন পূজিত হয় নিম, আমের মতো বনস্পতিও। প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের বার্তাই এই পুজোর মর্মবাণী। আদিবাসী আখড়া সংঘের উদ্যোগে রবিবার পালিত হয় এই ‘সারহুল উৎসব।
সারহুল পূজার অন্যতম রীতিতে রয়েছে হাড়িয়ার অর্ঘ্য দেওয়া ও তিনটি রঙের মুরগি বলি দেওয়া। আদিবাসী সংস্কৃতিতে এই আচারই প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবার উপায়। রীতি মেনে প্রকৃতির আরাধনার পরে চলে আনন্দোৎসব। মাদলের তালে নেচে ওঠেন পল্লীর পুরুষ-নারী, সব বয়সের মানুষ।
ললিতা ওঁরাও, রবি ওঁরাওরা জানান, বছরভর তাঁরা অপেক্ষা করেন এই একটি দিনের জন্য। এই বিশেষদিনে প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তাঁরা। রীতি ও আচার মেনে পুজো শেষ করে আনন্দোৎসবে মেতে ওঠেন।
গ্রামাঞ্চলে এখনও কেউ কেউ পুজোর আগে শিকারে বের হলেও শহর এলাকায় সেই সুযোগ নেই। তাই বেশিরভাগই পুজোর উপাচার জোগাড় করেন বাজার থেকে। একদিনের পুজো হলেও এর আবেদন গভীর। প্রকৃতি পুজোর মাধ্যমে নতুন বছরের সূচনার এই রীতি যেন মনে করিয়ে দেয়—নগরায়নের দৌড়ে সামিল হলেও প্রকৃতিকে যেন ভুলে না যায় মানুষ।