
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 31 October 2024 11:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজোয় সপ্তমীর দিন ঠাকুর দেখতে যাবে বলে বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ১৭ বছরের সায়ন নন্দী। প্রায় ১৯ দিন পর সায়নের দেহ মিলল পুলিশ মর্গে। এত দিন ধরে খোঁজ না মেলায় মঙ্গলবার পুলিশের সঙ্গেই পরিবারের লোকজন সায়নকে খুঁজতে বেরোন। তখনই শনাক্ত না হওয়া এক কিশোরের দেহ পুলিশ মর্গে পড়ে রয়েছে বলে জানা যায়। পরে সেই মর্গে গিয়ে তাঁরা দেখেন, ওই দেহ আর কারও নয় বরং সায়নেরই। গোটা ব্যাপারটায় সায়নের পরিবারের লোকজন পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে ঢিলেমি ও গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন।
গত ১১ অক্টোবর সকালে বালি ও বেলুড় স্টেশনের মাঝে রেললাইন থেকে সায়নের দেহ উদ্ধার করে বেলুড় জিআরপি। কিন্তু মৃতের পরিচয় জানতে না পারায় দেহ শনাক্ত করানো যায়নি। পুলিশের ধারণা, ট্রেন থেকে কোনও ভাবে পড়ে গিয়ে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে তবেই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কিন্তু, মৃত্যুর কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা থাকায় সায়নের পরিবার যথাযথ তদন্তের দাবি তুলেছে। তাঁদের প্রশ্ন, ১১ তারিখ দেহ উদ্ধারের পরও এত দিন লেগে গেল কী করে পুলিশের? জিআরপি-র সঙ্গে পুলিশের সমন্বয়ের এত অভাব কেন?
সায়নের বাবা বিষ্ণু নন্দী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'সপ্তমীর রাতে ১১টায় শেষ বার ফোন করে জানিয়েছিল ও শ্রীরামপুরে আছে। রাতেই বাড়ি ফিরবে। কিন্তু তারপরে ওর ফোন বন্ধ হয়ে যায়। যোগাযোগ করা যায়নি। শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মর্গে গিয়ে ছেলের দেহ পড়ে থাকতে দেখলাম। গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে মাথায়। কী ভাবে এমন হল, কেন পুলিশ এত দিনেও খোঁজ পেল না, কিছুরই উত্তর নেই।'
হাওড়া সিটি পুলিশের দাবি, প্রথম থেকেই গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার তদন্ত করা হয়েছে। প্রতিটি থানায় সায়নের ছবি ও মেসেজ পাঠানোও হয়েছিল। নিয়মিত তল্লাশিও চালানো হয়েছে। অষ্টমীর সকালে যখন রেললাইনের ধার থেকে সায়নের দেহ পাওয়া যায়, তখন মোবাইল ছিল না ওর কাছে। পকেটে ছিল ১১০ টাকা ও ট্রেনের হাওড়া স্টেশন-শ্রীরামপুর আপ-ডাউন টিকিট। আর কিছুই না থাকায় জিআরপি দেহটি শনাক্ত করতে পারেনি। তাই দেহ মর্গে পাঠানো হয়।