চন্দননগর মহকুমা হাসপাতাল
শেষ আপডেট: 18 November 2024 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালের চারতলার ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা রোগীর। মৃতের নাম প্রকাশচন্দ্র বায়েন। পেশায় গাড়ির চালক। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শুক্রবার পেট ব্যথা ও রক্ত বমির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
জানা যাচ্ছে রবিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার কথা ছিল রোগীর। আজ ভোররাতে হাসপাতালের ছাদে উঠে তিনি ঝাঁপ দেন বলে খবর। প্রকাশ আদতে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। চন্দননগরের মহাডাঙা কলোনীতে থাকতেন গত সাত বছর ধরে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, গতকাল রাত দেরটা নাগাদ হঠাৎই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন রোগী। নার্সদের টেবিল থেকে একটি কাঁচি নিয়ে অন্য রোগী ও নার্সদের আক্রমণ করতে যান। ফিমেল মেডিসিন ওয়ার্ডে ঢুকে নার্সিং স্টাফদের ঘরের ভিতরের সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে যান। তারপর ঝাঁপ দেন।
তাঁকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা শুরু করেন চিকিৎসকরা। রাত তিনটে নাগাদ অপারেশন থিয়েটারেই মৃত্যু হয় তাঁর। রাতেই খবর দেওয়া হয় রোগীর পরিবারকে। আজ সকালে মৃতদের পরিবার হাসপাতালে আসেন।
কী করে হাসপাতালের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পরিবারের লোকজন। সকালেই হাসপাতালে চলে আসেন হুগলি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মৃগাঙ্ক মৌলি কর। হাসপাতালের সুপারকে নিয়ে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন।
মৃতের স্ত্রী মিঠু বাইন বলেন, 'হাসপাতাল থেকে ফোন করা হয় তাড়াতাড়ি আসার জন্য। ছুরি কাঁচি নিয়ে ভয় দেখিয়েছে বলছে। এই প্রথম এমন করেছে। আমি আয়া রাখিনি। বাড়িতে পুরুষ কেউ নেই, তাই রাতে ওয়ার্ডে কেউ ছিল না। যে চলে গেছে তাকে আর ফিরে পাব না।'
মৃতের শ্যালক কবীর চৌধুরী বলেন, 'জামাইবাবু প্রচুর মদ খেতেন'। হাসপাতালের সুপার সন্তু ঘোষ বলেন, 'তিনদিন আগে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসা চলছিল। ক্রনিক অ্যালকহলিক রোগী ছিলেন প্রকাশ। মদ না খেলে এইরকম আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠেন। হাতে কাঁচি নিয়ে রোগীদের ভয় দেখিয়ে পালিয়ে ছাদে ওঠেন। হাসপাতালের পিছন দিকে লাফ দেন। উদ্ধার করার পরও বেঁচে ছিলেন। কিন্তু কিছুই করা গেল না।'