
শেষ আপডেট: 26 September 2024 14:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো,হুগলি: একটা ফুটবল চাই। সাদা কাগজে এমনই আবেদন পত্র নিয়ে ধনিয়াখালি থানার বড়বাবুর ঘরে হাজির আট খুদে ফুটবলার। বড়বাবু অবশ্য নিরাশ করেননি তাদের। নতুন ফুটবল পেয়ে খুশি বুম্বা,সুনীল,নাসিররা।
ধনিয়াখালি থানায় তখন সবাই ব্যস্ত। বড়বাবু টেবিলে বসে নিজের কাজ সামলাচ্ছেন। এমন সময় হাতে একটি আবেদন পত্র নিয়ে থানায় হাজির হল ৮ খুদে। তাদের প্রত্যেকেরই বয়স ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। থানার গেট দিয়ে ঢোকার সময় কিছুটা ইতস্তত করছিল। ধনিয়াখালি থানার বড়বাবু প্রসেনজিৎ ঘোষের নজরে আসে বিষয়টি। থানায় এত খুদে,হাতে সাদা কাগজে কিছু লেখা রয়েছে। বড়বাবু তাঁদের নিজের ঘরে ডেকে পাঠান। বড়বাবুর কাছে যেতে হবে শুনেই ভয় পায় খুদেরাও। ঘরে ঢুকে টেবিলে রেখে দেয় সাদা কাগজের লেখা আবেদন পত্র।পুলিশ কাকু খুঁটিয়ে পড়েন সেটি।
জানা যায়, ধনিয়াখালি কালিকাপুরের আট খুদে একটি ফুটবলের আবেদন নিয়ে বুধবার বিকেলে ধনিয়াখালি বিডিও অফিস চত্বরে ঘোরাঘুরি করছিল। একটি ফুটবলের জন্য আবেদন করেন ধনিয়াখালি পঞ্চায়েত সহ-সভাপতি সৌমেন ঘোষের কাছেও গিয়েছিল তারা। কিন্তু তখন সৌমেনবাবু প্রশাসনিক বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় খুদেরা তাঁর দেখা পায়নি। বিডিও অফিসের ডিউটি করছিলেন এক পুলিশ কর্মী। তিনি ধনিয়াখালি থানার বড়বাবুকে ফোন করে বিষয়টি জানান।
বড়বাবু জানতে চান বিডিও অফিসে ঘোরাঘুরি করছিলি কেন ? খুদেরা জানায় তারা ফুটবল খেলে কিন্তু তাদের ফুটবল নেই। তাদের সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ গল্প করেন বড়বাবু। এর মধ্যে চলে আসে একটি ফুটবল ও কিছু চকলেট। বুম্বা, সুনীল, নাসিরদের হাতে সেই ফুটবল ও চকোলেট তুলে দেন বড়বাবু। তা পেয়ে বেজায় খুশি খুদেরা। এরপর মজা করেই বড়বাবু জিজ্ঞাসা করেন ‘‘তোরা সবাই খেলাধুলা করিস তো নাকি? কোথায় খেলিস? একদিন যাব দেখব কেমন খেলিস।’’ খুদেরা সমস্বরে বলে ওঠে ‘‘হ্যাঁ হ্যাঁ আমরা সবাই খেলি। আমাদের খেলা দেখতে যাবে।’’ এরপর দায়িত্ব নিয়ে তাদের বাড়ি পৌঁছে দেন পুলিশকাকু। বললেন, ‘‘হয়তো এদের মধ্যেই কেউ আগামী দিনে কলকাতার বড় দল অথবা ভারতের হয়ে খেলবে।’’