
বলাগড় থানা
শেষ আপডেট: 26 December 2024 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: বলাগড়ের নিখোঁজ ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হল নদিয়ার শান্তিপুর থেকে। ব্যবসায়ীর রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়াল বলাগড়ে।
বলাগড় থানার গুপ্তিপাড়ার বাঁধাগাছি এলাকার বাসিন্দা যুবক সমর দাস। কাপড়ের উপর অ্যাপ্লিক করার ব্যবসা ছিল তাঁর। ছিল কাঠের ব্যবসাও। ২৩ ডিসেম্বর সকালে ব্যবসার কাজে গিয়েছিলেন শান্তিপুর। ওইদিন দুপুরের পর থেকে আর সমরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি বাড়ির লোক। নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় বলাগড় থানায়।
অবশেষে শান্তিপুরে গঙ্গার ঘাটের পাশের জঙ্গল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, সমরের গলার সোনার চেন ও হাতের সোনার আংটি ছিল যা পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি মোবাইলের সিম কার্ডও। তার থেকেই পরিবারের লোকেদের সন্দেহ খুন করা হয়েছে তাঁকে।
শাড়িতে পাড় বসানোর লেজার মেশিন বসিয়েছিলেন গুপ্তিপাড়ার সমর দাস। কিন্তু সম্প্রতি শান্তিপুরের এক ব্যবসায়ী ওই মেশিন বসানোয়, শান্তিপুরের ক্রেতারা সেখান থেকেই ওই কাপড় কিনতে শুরু করেছিলেন। শান্তিপুরের ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলার জন্যই সমর নাকি গিয়েছিলেন সেখানে।
সমরের ঘরে বৃদ্ধ বাবা,মা স্ত্রী ও সন্তান রয়েছেন। সবাই শোকাহত। এমন আকস্মিক ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁরা।
কথা বলার মতো অবস্থায় নেই পরিবারের কেউই। স্থানীয় মানুষরা সবাই চাইছেন রহস্য উদঘাটন হোক। যদি হত্যা করা হয়ে থাকে তবে হত্যাকারীর শাস্তি হোক।
ব্যবসায়ীর ভাই অভিজিৎ দাস বলেন, "কয়েকটা বিষয়ে তাঁদের খটকা লাগছে। দাদা যদি আত্মহত্যা করবে তাহলে নদিয়ায় কেন? যেদিন নিখোঁজ হয়েছিলেন সে দিন তারাপুর বাজার থেকে এক কাস্টমারের সঙ্গে বাইকে চেপে অন্য এক জায়গায় গিয়েছিলেন। আবার সেখান থেকে টোটো চেপে ফিরে আসেন তারাপুর ঘাটে। সেই ঘাটে পাশেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। কেউ দেখল না? গলায় সোনার চেন আংটি ছিল, সেগুলো কোথায় গেল? মোবাইলের সিম নেই কেন? এমনই একাধিক প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। দেহ ময়নাতদন্তের পর রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে মৃত্যুর কারণ।"
হুগলি গ্রামীন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সরকার বলেন, "একটা নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছিল। বলাগড় থানার পুলিশ পরিবারের লোক নিয়ে নদিয়াতে গিয়েও খোঁজখবর নেয়। সিসি ক্যামেরা খতিয়ে দেখে। ওই ব্যক্তি ওপারে স্থানীয় একজনের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করে। তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। যা হওয়ার তারপরেই হয়েছে।