কার্তিক পুজোর শেষে মঙ্গলবার বিসর্জনের শোভাযাত্রায় মেতে উঠলেন কাটোয়া, বাঁশবেড়িয়া, চুঁচুড়ার মানুষ। দেব সেনাপতি হাতে তীর ধনুক নিয়ে এগিয়ে গেলেন। পিছনে পিছনে নানা রকম বাজনা বাদ্যি-আলোকসজ্জা নিয়ে শোভাযাত্রায় সামিল হলেন মানুষ। এ যেন কিছুটা যুদ্ধযাত্রা। এর পরিচিতিও কার্তিকের লড়াই নামে। তিনি যে স্বর্গের রক্ষক দেব সেনাপতি।

শেষ আপডেট: 19 November 2025 12:59
দ্য় ওয়াল ব্যুরো: মহাদেব (Mahadev) ও পার্বতীর (Parbati) ছোট ছেলে হিসেবেই তাঁকে চেনে গোটা ভারত। বড্ড আদরের সন্তান। অন্যদিকে তিনি আবার দেব সেনাপতিও বটে। তাঁকে দেখতে যেমন সুপুরুষ তেমনই তিনি বীরশ্রেষ্ঠ। ময়ূরবাহন এই দেবতা রক্ষা করেন স্বর্গকে।
পুরানে আছে, তাড়কাসুরের অত্যাচারে স্বর্গের দেবদেবীরা যখন বিপর্যস্ত, তখন তাকে বধ করার জন্যই কার্তিকের জন্ম (Kartik )। কার্তিক বধ করেছিলেন তাড়কাসুরকে। শান্তি ফিরেছিল স্বর্গে। তারপর থেকে দেবতাদের সেনাদলের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। আর তিনিই হয়ে ওঠেন দেব সেনাপতি।
এমন বীরশ্রেষ্ঠ কার্তিক অথচ তাঁর পুজো ঘিরে নানা ধরনের গল্প কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। কিছুটা যেন শ্লেষ ব্যঙ্গ বিদ্রুপ জড়িয়ে আছে সেই সব প্রচলিত গল্পকথায়। কেন এমন? পুরোহিত ডঃ নন্দিনী ভৌমিক শোনালেন কার্তিকের জন্ম ও কর্মের নানান ইতিবৃত্ত। তিনি বলেন, "পুরাণের (Mythology) একটি মত ৬ জন ঋষিপত্নী তাঁর মাতা। স্বাহা ৬ ঋষিপত্নীর রূপ ধারণ করে অগ্নির সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন। তারপরেই জন্ম হয় কার্তিকের।"
আবার অন্য একটি পুরাণের গল্প (Mythology) তুলে ধরে তিনি বলেন, "মহাদেব পার্বতীর মিলনের তেজ ধারণে অসমর্থ হয়ে তা গঙ্গায় নিক্ষেপ করেন অগ্নি। সেই অসীম তেজরাশি বালকে রূপ পায়। তিনিই কার্তিক। ৬ জন কৃত্তিকা তাঁকে পালন করেন। ৬ মায়ের দ্বারা পালিত হতে হতে কার্তিকেরও ৬ মাথা হয়। তাই তাঁর নাম হয় ষড়ানন। এখানেই শেষ নয়। ৬টি তিথি ধরে বেড়ে উঠেছিলেন তিনি। এভাবেই ৬ সংখ্যাটি জড়িয়ে যায় কার্তিকের অস্তিত্বের সঙ্গে।"
নন্দিনী বলেন, "প্রচলিত ধারণা কার্তিক অবিবাহিত। কিন্তু আখ্যানে রয়েছে, তিনি বিবাহিত। তাঁর স্ত্রীর নাম দেবসেনা। ষষ্ঠী হিসেবেও তাঁর পরিচিতি। তাই একদিকে দেবসেনার স্বামী ও অন্যদিকে দেবতাদের সেনা দলের নেতৃত্ব দানকারী, দুই অর্থেই তিনি দেব সেনাপতি।" তিনি জানান, কার্তিকের আরাধনা করা হয় সন্তান হিসেবে। তাই পুজোর উপাচারে ছোটদের নানারকম খেলনাও সাজিয়ে দেওয়া হয়। নিঃসন্তান দম্পতিরা কার্তিক পুজো করেন সুসন্তান কামনায়। কার্তিক যে শিশুদের ভাল রাখেন। তাদের খেয়াল রাখেন। কার্তিক পুজোর শেষে মঙ্গলবার বিসর্জনের শোভাযাত্রায় মেতে উঠলেন কাটোয়া, বাঁশবেড়িয়া, চুঁচুড়ার মানুষ। দেব সেনাপতি হাতে তীর ধনুক নিয়ে এগিয়ে গেলেন। পিছনে পিছনে নানা রকম বাজনা বাদ্যি-আলোকসজ্জা নিয়ে শোভাযাত্রায় সামিল হলেন মানুষ। এ যেন কিছুটা যুদ্ধযাত্রা। এর পরিচিতিও কার্তিকের লড়াই নামে। তিনি যে স্বর্গের রক্ষক দেব সেনাপতি।