বিজেপি-র আনা দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গে মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া, "গুজরাতে মন্ত্রীর ছেলে দুর্নীতির দায়ে জেলে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র—সব জায়গায় কোটি কোটি টাকা অপব্যবহার হয়েছে। আদালতের নির্দেশও ওরা মানেনি। আর কথায় কথায় বাংলাকে কলুষিত করে।”

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 28 October 2025 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একশো দিনের কাজের বকেয়া অর্থ নিয়ে (West Bengal, Outstanding Amount in the NREGA project, ) রাজ্যের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রকে বড় নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রকে দ্রুত রাজ্যের বকেয়া টাকা মেটাতেই হবে। এই রায়কে ঘিরে তৃণমূল শিবিরে উচ্ছ্বাস, আর বিজেপি শিবিরে রক্ষণাত্মক প্রতিক্রিয়া।
রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বললেন, “এটা আমাদের বড় জয়। সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারের বড় ধাক্কা লেগেছে। মুখ্যমন্ত্রী বহুবার চিঠি লিখে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন, সেই লড়াই আজ ফল দিয়েছে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের আন্দোলন দমানো যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—রাজ্যের কোষাগার থেকেই শ্রমিকদের টাকা দেওয়া হবে। আইনি লড়াই চলছিল, আর তৃণমূলের রাজনৈতিক লড়াইও চলছিল মাঠে।”
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ১০০ দিনের কাজে রাজ্যের ৬,৯১৯ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে কেন্দ্র অনুমোদিত স্কিমে টাকা বন্ধ রেখেছে। গত তিন বছরে রাজ্যকে দেওয়া হয়নি শ্রম দিবসের অনুমোদন। ফলে ৫০,৩৪৪ কোটি টাকার কাজের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন রাজ্যের শ্রমিকরা।
প্রদীপবাবু বলেন, “১৯টি জেলায় কেন্দ্রীয় টিম মনিটরিং করেছে, ৭৮ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যে টাকা অনিয়মে খরচ হয়েছিল, তা রিকভার করে কেন্দ্রকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। আমরা দায় এড়াইনি। তা সত্ত্বেও আমাদের টাকা আটকে রেখেছে।”
এ ব্যাপারে বিজেপি-র আনা দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গে মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া, "গুজরাতে মন্ত্রীর ছেলে দুর্নীতির দায়ে জেলে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র—সব জায়গায় কোটি কোটি টাকা অপব্যবহার হয়েছে। আদালতের নির্দেশও ওরা মানেনি। আর কথায় কথায় বাংলাকে কলুষিত করে।”
শাসকদলের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল বলেন, “এই রায় বাংলার জয়। বিজেপি বাংলায় পরাজিত হয়েই গরিব মানুষের ওপর বদলা নিয়েছে। তিন বছর ধরে ১০০ দিনের টাকা আটকে রেখে বাংলার শ্রমিকদের কাঁদিয়েছে। বাংলার মানুষ এর জবাব ২০২৬-এর ভোটে দেবে।”
রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা আবেগঘন সুরে বলেন, “আমরা দিল্লি গিয়েছিলাম, ট্রেনের টিকিট কাটা ছিল। ট্রেন বাতিল করা হল। দুই ঘণ্টা ধরে বসেছিলাম কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দফতরে, কিন্তু মন্ত্রী পেছনের দরজা দিয়ে পালালেন! পুলিশ আমাদের ধরে নিয়ে গেল। এই জয় সেই খেটে খাওয়া মানুষের চোখের জলের জয়, যারা তিন বছর ধরে প্রাপ্য টাকা পায়নি।”
রাজ্য শিবিরের বক্তব্য, আদালতের এই রায় শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও এক বড় বার্তা—বাংলাকে বারবার বঞ্চিত করার রাজনীতির বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের জয়।