
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বেচারাম মান্না।
শেষ আপডেট: 2 January 2025 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলুর কালো বাজারির নেপথ্যে কারা? কীভাবে হয় এই কালোবাজারি? বৃহস্পতিবার নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানালেন রাজ্যের কৃষি ও বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না।
সম্প্রতি বাজারে কেজি প্রতি আলুর দাম ৪০ টাকা ছুঁয়েছিল। এরপরই আলুর কালোবাজারি নিয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী ভিন রাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। বাজারে নজরদারির জন্য টাস্ক ফোর্সকেও নির্দেশও দেন প্রশাসনিক প্রধান। এদিনের বৈঠকে এ ব্যাপারে মুখ্যসচিবের কাছে জানতেও চান মমতা। তখনই কালোবাজারি নিয়ে মুখ খোলেন বেচারাম।
বেচারাম বলেন, "ক্রিকেটে যেমন বেটিং চলে, তেমন আলুতেও একটা সিস্টেম আছে। এটাকে ভোটিং মার্কেট বলে। এরা মূলত কলকাতার দিকে যে আলুগুলে আসে সেই মার্কেটে এই কালোবাজারি করে। বর্ধমানের মেমারি, কালনার বুলবুলি তলা, গুগলির বুনচি, ভান্ডারিহাটি, তারকেশ্বর এলাকা থেকে এটা করা হয়। এরা মনোপলি রেট ঠিক করে। কালকে আলুর রেট কী হবে তারা আজ সন্ধেয় বসে ঠিক করে।"
মমতা জানতে চান, এই চক্রে কারা রয়েছে? বেচারাম বলেন, ডিজি এবং মুখ্যসচিবকে তালিকা দিয়েছি। ব্যবস্থা নিলে এই চক্র বন্ধ হয়ে যাবে। ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, 'চক্র সরকার চালাবে না সরকার চক্র চালাবে?' এরপরই ডিজি এবং মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন মমতা।
একই সঙ্গে মেদিনীপুর এবং গড়বেতার একাংশ অসাধু ব্যবসায়ী ও পুলিশকেও এদিনের বৈঠক থেকে নিশানা করেছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বাজারে নতুন আলু উঠছে। এখনই অনেকে বলবে, কোল্ড স্টোরেজের আলু বের করে দিন। আমি জানি মেদিনীপুর ও গড়বেতার কিছু ব্যবসায়ী এই চক্রর সঙ্গে জড়িত রয়েছে। পুলিশের অনেকেও জড়িত রয়েছে।" এ ব্যাপারে মুখ্যসচিব এবং ডিজিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেন মমতা।