দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকে প্রথম কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়েছিল সেই ফেব্রুয়ারিতে। সৌদি আরব ফেরত ৭৬ বছরের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল করোনার সংক্রমণে। তারপর থেকে গোটা রাজ্যকেই সুরক্ষার আবরণীতে মুড়ে ফেলেছে কর্নাটক সরকার। ফেব্রুয়ারি থেকে এই মে মাস পর্যন্ত রাজ্যে সংক্রমিতের সংখ্যা হাজারেরও কম, সেখানে মহারাষ্ট্র, গুজরাট, দিল্লিতে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। চমক দেখিয়েছে রাজ্যের সবচেয়ে বড় শিল্প শহর বেঙ্গালুরু। আজ অবধি সেখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৮৮ জন। সংক্রমণে মৃত্যুর হয়েছে আট জনের।
ব্রুহাট বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকে (বিবিএমপি)-র পরিসংখ্যাণ বলছে, দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলিতে যখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, বেঙ্গালুরুতে তখন কোভিড সংক্রমণের গ্রাফ ক্রমশই কমতির দিকে। হিসেব বলছে বেঙ্গালুরুর তুলনায় মুম্বইতে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৮০ গুণ বেশি। মহারাষ্ট্রে আক্রান্ত ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে মুম্বইতেই সংখ্যাটা ১৪,৮৯৯। আহমেদাবাদে প্রায় ৩৪ গুণ বেশি, আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩৫৩ এবং প্রতিবেশী চেন্নাই শহরেই সংক্রামিতের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে।
বিবিএমপি-র কমিশনার বি এইচ অনীল কুমার বলেছেন, সংক্রমণ কমছে দেশের যেসব শহরে তাদের একটা তালিকা তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে ৬ নম্বরে রয়েছে বেঙ্গালুরু। পরিসংখ্যাণ বলছে, কানপুর, অমৃতসর, লখনৌ, নাগপুর, জলন্ধর, আজমেঢ়, মেরঠ, উদয়পুর ও শাহারানপুরের থেকেও বেঙ্গালুরুতে কোভিড রোগীর সংখ্যা অনেক কম।
কীভাবে সংক্রমণকে এত জলদি রুখে দেওয়া গেল? বিবিএমপি কমিশনার অনীল কুমার বলছেন, তিন পদ্ধতিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া আটকানো গেছে। বলা যেতে পারে তিন 'টি'-এর চমক। এক, কোভিড রোগী চিহ্নিত করা (Trace), দুই, দ্রুত টেস্টিং (Test) এবং তিন, চিকিৎসা (Treatment)। দেশজোড়া লকডাউন শুরুর আগে থেকেই সমস্ত স্কুল-কলেজ, আইটি ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কর্মসূচী স্থির হয়েছিল সেই ১৩ মার্চ থেকেই। বেঙ্গালুরুতে আইটি হাবের সংখ্যা বেশি থাকায় দেশের নানা রাজ্য থেকে কর্মসূত্রে মানুষজনের আনাগোনা লেগেই থাকে। এই শহরে কলেজ, ইউনিভার্সিটির সংখ্যাও অনেক। কাজেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ও বেশি ছিল। কমিশনার বলেছেন, শুরু থেকেই তাই শক্ত হাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শহরের নানা প্রান্তে র্যাপিড টেস্টিং শুরু হয়। কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়লেই আইসোলেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয় রোগীদের। তাছাড়া সংক্রামিতদের সংস্পর্শে এসেছেন যাঁরা, এমন মানুষজনকে খুব দ্রুত চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। বেঙ্গালুরুতে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পাবের সংখ্যাও অনেক বেশি। মার্চ মাস থেকেই সমস্ত পাব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সরকারি নির্দেশে।
কর্নাটক সরকারের উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল টাস্ক ফোর্স। শহরের নানা জায়গায় র্যান্ডম টেস্ট ও স্ক্রিনিং শুরু হয়। ছোট ছোট ক্লাস্টার জ়োনে ভাগ করে ফেলা হয় শহরকে। সেখানে টেস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগে ১৫টি মেডিক্যাল টিম পৌঁছয় শহরে। কনটেইনমেন্ট জ়োনগুলিতে প্রতি বাড়ি ঘুরে ঘুরে টেস্ট শুরু হয়। সংক্রমণের সামান্য উপসর্গ দেখা গেলেও কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। বিবিএমপি সূত্রে জানানো হয়েছে, শহরের ১৯৮টি মিউনিসিপ্যাল ওয়ার্ডে ২৫ লক্ষের বেশি পরিবারের স্ক্রিনিং ও টেস্টিং করা হয়েছে। সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম, ইনফ্লুযেঞ্জার মতো সংক্রমণ এবং কোভিড রোগীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংস্পর্শে আসাদের আলাদা করে চিহ্নিত করে ফেলা হয়েছে। চিকিৎসাও শুরু হয়েছে সে ভাবেই।