
শেষ আপডেট: 27 October 2023 20:35
রেশন ডিলার ও মিল মালিক বাকিবুর রহমান গ্রেফতার হতেই দেওয়াল লিখন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছিল। শেষমেশ হলও তাই। বাকিবুরের সূত্রেই বনমন্ত্রী তথা প্রাক্তন খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতার করেছে ইডি। তারপর আদালতে ইডি জানিয়েছে, কীভাবে রেশনের আটা চুরি করে খোলা বাজারে বিক্রি করেছেন বাকিবুর রহমান। ইডি তিনটি ভুয়ো কোম্পানির হিসাব দেখানোর চেষ্টা করেছে, সেই টাকার বখরা পেয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বালুর স্ত্রী মনিদীপা ও মেয়ে প্রিয়দর্শিনীকে ডিরেক্টর করে ভুয়ো কোম্পানি খোলা হয়েছে। তার পর বোগাস প্রিমিয়াম ও আনাজ বেচার কমিশন দেখিয়ে অন্তত ২০ কোটি টাকা লুঠ হয়েছে।
ইডির দাবি অনুযায়ী খোলা বাজারে রেশনের আটা বেচে পাওয়া গিয়েছিল ক্যাশ টাকা অর্থাৎ নগদ। সেই কালো টাকা সাদা করতে খোলা হয়েছিল ভুয়ো কোম্পানি। অপরাধের মাধ্যমে উপার্জিত সেই অর্থ তথা প্রসিডস অফ ক্রাইম কীভাবে বাকিবুর, জ্যোতিপ্রিয়র কোম্পানি তাঁর সিএ এবং আরও কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে হাত বদল হয়েছে তাও আদালতে পেশ করা মামলার কপিতে বোঝানোর চেষ্টা করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
ইডি আদালতকে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ঠিক পৌনে তিনটের সময়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগে দিনভর কেটে গিয়েছে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী-মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে। সেই জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে বালু ও তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে প্রথমে স্বীকার করতে চাননি যে গ্রেসিয়াস ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমি়টেড, গ্রেসিয়াস ইনোভেশন প্রাইভেট লিমিটেড ও শ্রী হনুমান রিয়েলকন প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এর পরই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এই তিন কোম্পানির স্ট্যাম্প পাওয়া যায়। ইডির দাবি তখন আর তাঁদের অস্বীকার করার উপায় ছিল না। তবে মনিদীপা মল্লিক ও প্রিয়দর্শিনী গোটা দায় জ্যোতিপ্রিয়র কনফিডেনশিয়াল অ্যাসিসট্যান্ট অজয় দে-র উপর চাপিয়ে দেন। তাঁরা বলেন, অজয় যেখানে বলতেন, সেখানে তাঁরা সই করে দিতেন মাত্র। কিন্তু কীভাবে এই তিন কোম্পানিতে জ্যোতিপ্রিয়র স্ত্রী ও মেয়ে ডিরেক্টর হলেন, এই তিন সংস্থার কাজ কী ছিল, তার ব্যাখ্যা তাঁরা দিতে পারেননি।
আদালতকে ইডি জানিয়েছে, মোদ্দা ব্যাপার হল রেশনের আটা চুরি করে এরা টাকা কামিয়েছে। এটা একটা সংঘটিত অপরাধ চক্র ছিল। যে চক্রে জড়িত ছিলেন গমকল মালিকরা, রেশন ডিস্ট্রিবিউটার ও ডিলার এবং আরও কিছু লোক। বাকিবুর রহমানের এনপিজি রাইস মিলে রেশনের আটা ক্রমাগত সরানো হয়েছে।
ইডি সূত্রে বলা হচ্ছে, কোনও কোনও বস্তা থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত চুরি করা হয়েছে। তার পর সেগুলো খোলা বাজারে চলতি বাজারমূল্যে বিক্রি করে মুনাফা কামানো হয়েছে।