পেটের দায়ে ফের গুরগাঁও। একাধিক শ্রমিকের দাবি, বাড়ি ফিরে বুঝেছেন, এখানে অটো চালিয়ে মাসিক কিস্তি (EMI) চালানোই অসম্ভব।

কাজের খোঁজে গুরগাঁওমুখী অটোচালকরা
শেষ আপডেট: 2 September 2025 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর দিনাজপুরের (North Dinajpur) ইটাহার থেকে ফের গুরগাঁওমুখী শ্রমিক (Gurgaon Worker) পরিবার। প্রায় ৩৫টি পরিবার ২৫টি অটো নিয়ে রওনা হয়ে শনিবার ভোরে পৌঁছলেন হরিয়ানায় (Haryana)। বাংলায় (West Bengal) সংসার চালানোর মতো রোজগার নেই, তাই ভিনরাজ্যে গিয়েও ‘বাংলাদেশি’ (Bangladeshi) বলে নিগ্রহের আশঙ্কা সত্ত্বেও কাজের খোঁজেই ফিরতে বাধ্য হলেন তাঁরা।
জাফর আলি, কপাশিয়ার বাসিন্দার কথায়, “এক মাস বাড়ি ছিলাম। কিন্তু ইটাহারে দিনে ২০০ টাকার বেশি আয় হয়নি। অথচ গুরগাঁওতে দিনে অন্তত ১,০০০ টাকা রোজগার করি। তাই আবার ফিরেছি।’’
গত জুলাইয়ে হরিয়ানা-সহ বিজেপি-শাসিত কয়েকটি রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্থা ও পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। তার পরেই আতঙ্কে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন এই অটোচালকেরা। অভিযোগ, কাগজপত্র দেখিয়েও তাঁদের পুলিশি জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল।
তবু পেটের দায়ে ফের গুরগাঁও। একাধিক শ্রমিকের দাবি, বাড়ি ফিরে বুঝেছেন, এখানে অটো চালিয়ে মাসিক কিস্তি (EMI) চালানোই অসম্ভব। গুরগাঁওতে শুধু অটো চালিয়েই নয়, তাঁদের স্ত্রীরা গৃহকর্মী হিসেবে মাসে ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি আয় করেন। সন্তানদের পড়াশোনা, সংসারের খরচ— সব মিলিয়ে ভরসা সেই গুরগাঁওয়ের রোজগার।
দলীয় মহলে শোরগোল পড়লেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে চলছে ‘বাঙালি-বিদ্বেষ’। এই প্রেক্ষিতেই চালু হয়েছে ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প। ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের জন্য ভাতা ঘোষণা করেছেন।
কিন্তু বাস্তবে তা পর্যাপ্ত নয় বলেই মত শ্রমিকদের। দ্য ওয়াল যখন এ ব্যাপারে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে, তখন অনেকেই বলাবলি করেছেন, ৫,০০০ টাকায় সংসার চলে না। বরং কর্মসংস্থানের ব্যাপারে যদি গুরুত্ব দেওয়া যেত তাহলে আরও ভাল হত।
এইবার অবশ্য নতুন করে গুরগাঁও যাওয়ার আগে প্রতিটি শ্রমিক স্থানীয় থানার ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট ও বিধায়কের শংসাপত্র সঙ্গে নিয়েছেন। তাঁদের আশা, এ বার আর ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্থা হতে হবে না।
এ প্রসঙ্গে ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেন বলেন, “বাংলাভাষী শ্রমিকদের পাশে আমরা আছি। অভিযোগ জানানোর জন্য গ্রিভিয়েন্স সেল ও মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থাও হয়েছে। তবু যদি কেউ রোজগারের জন্য ভিনরাজ্যে যেতে চান, সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।”