
চুঁচুড়া আদালত
শেষ আপডেট: 29 April 2025 19:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: পণের জন্য স্ত্রীর উপর অত্যাচার। দুধের শিশুদেরও রেয়াত করেনি বাবা। তাদের ছুরি মেরে হত্যার চেষ্টায় দশ বছরের কারাদণ্ড হল দোষীর।
মঙ্গলবার চুঁচুড়া আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট এই সাজা ঘোষণা করে। মগরা থানার বাঁশবেড়িয়ার গ্যাঞ্জেস জুটমিল এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ পাশির সঙ্গে ২০১৮ সালে বিয়ে হয় ওই এলাকারই জ্যোতি রাজভরের। বিয়ের পর থেকে পণের জন্য স্ত্রীর উপর অত্যাচার করত সন্দীপ। ওই দম্পতির সাড়ে তিন বছর ও ১ বছরের দুই ছেলে রয়েছে। আদালতসূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রীর উপর অত্যাচারের পাশাপাশি দুই সন্তানকেও মারধর করত তাদের বাবা। মাঝে মধ্যে মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে ছেলেদের নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যেত জ্যোতি।
২০২৩ সালে ১৯ শে মে অশান্তির সময় ছুরি দিয়ে স্ত্রীকে আঘাত করে সন্দীপ। দুই সন্তানকেও গলায় ও বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। জ্যোতির মা নাতিদের বাঁচাতে গেলে তার উপরেও ছুরি নিয়ে হামলা করে সন্দীপ। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রতিবেশীরা চারজনকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। মগরা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে।অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তর বিরুদ্ধে ৪৯৮,৩০৭,৩২৬ ধারায় মামলা রুজু হয়।
মামলার সরকারি আইনজীবী অমিয় সিংহ রায় বলেন, এই মামলায় ১০ জন সাক্ষ্য দেন। হুগলি জেলে বন্দি সন্দীপ পাশি।সেখান থেকে ভার্চুয়ালি তাকে উপস্থিত করা হয়। আদালত তাকে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
জ্যোতির বাবা অলোক রাজভর বলেন, "আমরা আদালতের রায় খুশি। মেয়ে নিজে দেখাশোনা করে বিয়ে করেছিল। আমরা অনুষ্ঠান করে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই পণের জন্য মেয়ের উপর অত্যাচার শুরু করে। দুটো নাতিকেও ছাড়তো না। ঘটনার দিন তাদেরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। আমরা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে কোনওমতে ওদের প্রাণে বাঁচাই।"