দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারাবিশ্বের অসংখ্য দেশ লকডাউন। সংক্রমণের ভয়ে ঘরবন্দি কোটি কোটি মানুষ। বন্ধ কাজের জায়গা, বন্ধ পড়াশোনা। বন্ধ বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎও। মানুষের সঙ্গে মানুষের মেলামেশাই বন্ধ। দূরত্ব রক্ষা করাই এখন একমাত্র সত্য। আর এই পরিস্থিতিতে অনলাইনে মানুষের সঙ্গে মানুষের দেখা-সাক্ষাৎ, আড্ডা, কাজের অন্যতম এক ভিডিয়ো কনফারেন্সিং প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে জুম।
আরও অনেক এমন প্ল্যাটফর্ম থাকলেও, জনপ্রিয়তার নিরিখে এটিই এগিয়ে। একসঙ্গে অনেক জন ভিডিও কনফারেন্স করতে পারেন এই অ্যাপের মাধ্যমে। কিন্তু জনপ্রিয় ও কার্যকর হলেও, এই প্ল্যাটফর্মটি গ্রাহকদের জন্য মোটেও নিরাপদ নয় বলেই জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
https://twitter.com/kamaljitsandhu/status/1250711004138229760
তথ্য বলছে, তিন মাস আগেও যেখানে গড়ে প্রতিদিন ১ কোটি গ্রাহক এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতেন, এই লকডাউনে সেটাই বেড়ে দৈনিক ২০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। যাঁরা ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন, তাঁদের কাজেও বড় ভরসা হয়ে উঠেছে এই জুম। রাজনৈতিক আলোচনা থেকে কর্পোরেট মিটিং, পড়াশোনা থেকে সংবাদমাধ্যমের প্যানেল ডিসকাশন-- এই সবকিছুই এখন বহুল পরিমাণে জুম-নির্ভর।
এই জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্য অভিযোগও উঠেছিল। পরিচিত সাইবার সুরক্ষা সংস্থা সাইবেলের তরফে সম্প্রতি দাবি করা হয়েছিল, জুমের ৫ লক্ষেরও বেশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত ই-মেল অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড, পার্সোনাল মিটিং-এর ইউআরএল এবং হোস্ট-কি ডার্ক ওয়েবে অর্থাৎ নেট জগতের অন্ধকারে ফাঁস হয়ে গিয়েছে। এমনকি এমনও অভিযোগ শোনা গেছিল, অসংখ্য গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য নামমাত্র পয়সার বিনিময়ে বিভিন্ন ফোরামে হ্যাকারদের বেচে দিচ্ছেন জুম কর্তৃপক্ষ। জুমের তরফে অবশ্য এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

কিন্তু এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ এই অভিযোগকেই কার্যত সত্য বলে মেনে নিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অ্যাডভাইসরিতে বলা হয়েছে, ভিডিও কনফারেন্সের জন্য জুমের ব্যবহার সুরক্ষিত নয়। এর ফলে গ্রাহকদের বিপদ হতে পারে। গোপনীয়তা বজায় নাও থাকতে পারে।
জুম অবশ্য দিন কয়েক আগেই ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে নিজেদের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার দিকে মন দেয়। ফেসবুকের প্রাক্তন সাইবার সুরক্ষা প্রধানকে নিয়োগও করে তারা। কিন্তু গুগল বা নাসার মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলি ইতিমধ্যেই তাদের কর্মীদের মধ্যে জুম ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এই নিয়ে কর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কও। মার্কিন সিনেট সদস্যদেরও জুম ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।

সাইবার বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের অনেক জায়গাতেই এনক্রিপশন (যে প্রক্রিয়ায় তথ্য বা ডেটা কো়ডে রূপান্তরিত হয় এবং তা সুরক্ষিত থাকে) দুর্বল। ফলে খুব সহজেই বিশ্বের নানা প্রান্তের অনলাইন ফাঁদে ধরা দিচ্ছে গ্রাহকদের তথ্য।