বন দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। বরাত পাওয়া সংস্থার হাতে জমি হস্তান্তরও হয়ে গিয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার আট কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 February 2026 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের পর্যটন (North Bengal Tourism) মানচিত্রে বহু দিনের পরিচিত নাম হলং বনবাংলো (Holong Bunglow)। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের অন্তরে ১৯৬৭ সালে তৈরি হওয়া এই বাংলো প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণের নিবিড় সান্নিধ্যের জন্য ভ্রমণপিপাসুদের কাছে ছিল বিশেষ আকর্ষণ। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৮ জুন রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় কাঠের তৈরি সেই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। রাত প্রায় ন’টা নাগাদ আগুন লাগে, মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে পুরো কাঠামো।
দুর্ঘটনার পর থেকেই সেটি পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু করে বন দফতর। সূত্রের খবর, এ বার আগুনের ঝুঁকি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও অগ্নিরোধী উপকরণ ব্যবহার করা হবে। আগের মতো সম্পূর্ণ কাঠের কাঠামো না রেখে কাঠ ও কংক্রিটের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হবে নতুন বাংলো। তবে বাইরের রূপে থাকবে কাঠের ঐতিহ্য, যাতে আগের আবহ অটুট থাকে।
বন দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। বরাত পাওয়া সংস্থার হাতে জমি হস্তান্তরও হয়ে গিয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার আট কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে।
জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আচরণবিধি জারি হওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যে কোনও দিন শিলান্যাস করতে পারেন। তাঁর হাতেই আনুষ্ঠানিক সূচনা হওয়ার পর পূর্ণমাত্রায় নির্মাণকাজ শুরু হবে।
আগুনে পুড়ে যাওয়ার আগে বাংলোতে ছিল আটটি কক্ষ। পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রেও সেই সংখ্যাই বজায় রাখা হবে। তবে নির্মাণে থাকবে বাড়তি সতর্কতা। সংরক্ষিত অরণ্যের মধ্যে সরাসরি কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণে আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই বিশেষ প্রকৌশল প্রয়োগ করে কাঠের নান্দনিকতা অক্ষুণ্ণ রেখে ভিতরে শক্তপোক্ত কাঠামো তৈরি করা হবে।
পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ ও অগ্নিরোধী ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
তবে সব মিলিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে— এই নতুন বাংলো কি আগের মতো বাণিজ্যিক পর্যটনের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে? বনদফতর সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয়।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা অবশ্য পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, “বাংলোটি পুড়ে যাওয়ার পর থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিলাম। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ ছিল এই হেরিটেজ বাংলো।”
অতএব, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে ফের ফিরতে চলেছে ডুয়ার্সের সেই ঐতিহাসিক ঠিকানা - হলং বনবাংলো।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ঐতিহ্য ও নিরাপত্তার সমন্বয়ে নতুন রূপে ফিরলে হলং বনবাংলো আবারও উত্তরবঙ্গের ভ্রমণ শিল্পে প্রাণসঞ্চার করবে।