বর্ষার মরশুমে বাঙালির পাতে ইলিশ না পড়লে চলে না। দাম আকাশছোঁয়া হলেও শৌখিন ক্রেতার চাহিদা তুঙ্গে। আর সেই চাহিদার সুযোগেই শান্তিপুরে ঘটল চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 29 July 2025 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ষার মরশুমে বাঙালির পাতে ইলিশ (Hilsa) না পড়লে চলে না। দাম আকাশছোঁয়া হলেও শৌখিন ক্রেতার চাহিদা তুঙ্গে। আর সেই চাহিদার সুযোগেই শান্তিপুরে ঘটল চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা (Shantipur Market)। পুর এলাকার নতুনহাট বাজার থেকে রাতের অন্ধকারে লুট হয়ে গেল প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার ইলিশ মাছ। যা দেখে চোখ কপালে ব্যবসায়ীদের। হাহাকার বাজারজুড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে নতুন ইলিশ ঢুকেছিল বাজারে। রবিবারের হাটের কথা মাথায় রেখে অন্তত সাতজন মাছ ব্যবসায়ী থার্মোকলের বাক্সে করে ইলিশ রেখে যান নিজেদের স্টলে। মাছের ওজন, সাইজ, গুণমান মিলিয়ে ওই মাছের বাজারমূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা।
পরদিন সকালে দোকানে এসে দেখেন, ফাঁকা বাক্স, উল্টে পড়ে রয়েছে থার্মোকলের কুড়কুড়ে খোলস। ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাতলা, রুই, কিন্তু কোথাও নেই একটাও ইলিশ। কারও কারও ইলিশ ভর্তি গোটা বাক্সটাই উধাও!
ব্যবসায়ী বিকাশ বর্মনের কথায়, “১৮ কেজি ইলিশ তুলেছিলাম। দাম ধরুন ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি। সকালে দেখি, পুরো পেটি উধাও। এক টাকাও উঠল না। প্রায় ৩৭ হাজার টাকার ক্ষতি।”
দেবেন্দ্র বিশ্বাস নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “ঋণ করে ইলিশ তুলেছিলাম। সবই এক থেকে দেড় কেজি ওজনের মাছ। দাম ধরলে ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি। সব উধাও।”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে আলাদা করে কোনও নিরাপদ স্টোররুম নেই। প্রত্যেকে নিজেদের স্টলে মাছ রেখে যান। মাঝেমধ্যে চুরি হলেও এত বড় লুট এই প্রথম।
অন্যদিকে, পুরসভা সূত্রে খবর, বাজারে পাহারায় থাকে দু’জন নাইট গার্ড। কিন্তু ঘটনার রাতে তাঁরা কী করছিলেন? পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ বলেন, “স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, রাত্রিকালীন রক্ষীরা দায়িত্বে গাফিলতি করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লুঠকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে এমন না হয়, সেই দিকেও নজর দেওয়া হবে।”
ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীরা শান্তিপুর থানায় ও পুরসভায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত শুরু হয়েছে পুলিসের তরফেও।
বাজারে ক্রেতা-ব্যবসায়ী সকলের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—ইলিশ গেল কোথায়?