
শেষ আপডেট: 25 January 2024 16:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: অনাস্থা আনার পর থেকে চেয়ারম্যান নিয়ে জট খুলছে না ঝালদা পুরসভার। ঠিক মতো কাজ হচ্ছে না সেখানে। ফলে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এবার সেই জট কাটাতেই ৭ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান নিয়োগের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার ঝালদা পুরসভা নিয়ে মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট জানায়, এই সাত দিন পুরসভার সমস্ত দায়িত্ব সামলাবেন এসডিও। এই কয়েকদিনের মধ্যে পুরসভা কর্তৃপক্ষকে নিয়ম মেনে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে হবে।
গত ১৭ জানুয়ারি ঝালদা পুরসভায় তলবি সভা ছিল। সেই দিনই সভা বাতিলের প্রস্তাব দেয় পুর কর্তৃপক্ষ। সেদিন দিনভর নাটকীয় ঘটনা ঘটতে থাকে। তলবি সভা বাতিলের নোটিস অস্বীকার করে ও তৃণমূলের হুইপকে উপেক্ষা করে পুরপ্রধান অপসারণের ভোটাভুটি হয় পুরসভায়।
সেখানে অংশ নেন তৃণমূলের ৫ কাউন্সিলর ও ২ কংগ্রেস কাউন্সিলর। পুরপ্রধান শীলা চট্টোপাধ্যায় সহ ৫ তৃণমূল কাউন্সিলর ওইদিন পুরসভাতে অনুপস্থিত ছিলেন। পুরপ্রধানকে অপসারণের পক্ষে ওই পুরসভায় উপস্থিত ৭ কাউন্সিলর ভোট দেন। তবে এই ভোট কতটা মান্যতা পাবে তা নিয়ে সংশয় ছিল।
উল্লেখ্য পুর কর্তৃপক্ষ তলবি সভা বাতিলের যে নোটিস জারি করেছিল, সেখানে জানানো হয় বাতিল হওয়া সভা ২৭ জানুয়ারি হবে। যদিও ২৭ জানুয়ারি, শুক্রবার আদৌ এদিন সভা হবে কিনা তানিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ আগের দিন উপস্থিত ৭ কাউন্সিলর নিজেদের মধ্যে ভোটাভুটি করে নিয়েছিলেন। এবার পুর কর্তৃপক্ষ সভা ডাকলে তাঁরা উপস্থিত হবেন কিনা সেবিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে কোর্টের এই নির্দেশ মেনে পুরসভা কী পদক্ষেপ করবে সেদিকে তাকিয়ে আছে ঝালদার মানুষ।
কাউন্সিলর তপন কান্দু খুনের পরে তাঁর ভাইপো সহ ৫ কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকে ঝালদা পুরসভায় সমস্যা শুরু হয়। ১২ আসনের এই পুরসভায় আপাতত ১০টি তৃণমূলের দখলে রয়েছে। বাকি দুটি কংগ্রেসের। কয়েকদিন আগে পর্যন্ত পুরপ্রধান পদে ছিলেন কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া শীলা চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু ২০২২ সালে ২৩ নভেম্বর পুরপ্রধানের অপসারণ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জোড়া মামলা হয়। আদালতের দ্বারস্থ হন তপন কান্দুর স্ত্রী তথা কংগ্রেস কাউন্সিলর পূর্ণিমা কান্দু ও কাউন্সিলর বিপ্লব কয়াল। একই দাবিতে ৫ তৃণমূল কাউন্সিলরও দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।