দ্য ওয়াল ব্যুরো : গতবছর বিধানসভা ভোটে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন লোক জনশক্তি পার্টির শীর্ষ নেতা চিরাগ পাসোয়ান। লোক জনশক্তি পার্টি নীতীশের জনতা দল ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে প্রার্থীও দিয়েছিল। এর ফলে কয়েকটি আসন হাতছাড়া হয় নীতীশের। ভোটে তৃতীয় স্থান পায় জেডি ইউ। এরপর সোমবার জানা গেল, চিরাগের দলের ছ'জন এমপির মধ্যে পাঁচজনই বিদ্রোহ করেছেন।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ানের ছেলে চিরাগ নিজেও দলের সাংসদ। তিনি বাদে দলের অপর এমপি-রা লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে বলেছেন, তাঁরা আর লোক জনশক্তি পার্টিতে নেই। তাঁদের যেন লোকসভায় আলাদা গ্রুপ হিসাবে দেখা হয়।
চিরাগের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁর নিজের কাকা পশুপতি কুমার পরশ। রামবিলাস পাসোয়ানের মৃত্যুর পর থেকেই কাকার সঙ্গে চিরাগের ঝগড়া শুরু হয়। চিরাগ কাকাকে হুমকি দিয়ে বলেন, তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করবেন। পরশ বলেন, তুমি ধরে নাও তোমার কাকা মারা গিয়েছেন। এরপর থেকে কাকার সঙ্গে কথা বলতেন না চিরাগ। গতবছর বিহারে ভোটের সময় দলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে চিরাগ কাকার সঙ্গে আলোচনাও করেননি। তাতে অপমানিত বোধ করেন পরশ। চিরাগ তাঁর খুড়তুতো ভাই প্রিন্স রাজকে দলের বিহার শাখার রাজ্য সভাপতির পদ দিয়েছিলেন। তিনিও বিদ্রোহ করেছেন।
একটি সূত্রে খবর হাজিপুরের এমপি পরশকে কেন্দ্রে মন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নীতীশ। মুখ্যমন্ত্রীর দুই অনুগামী মহেশ্বর হাজারি ও লালন সিং এখন এলজেপির অন্যান্য বিদ্রোহী বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বিদ্রোহীদের মধ্যে প্রিন্স রাজ, চন্দন সিং, বীণা দেবী ও মেহবুব আলি কায়সার কিছুদিনের মধ্যেই বিহারে জেডি ইউ-কে সমর্থন করতে পারেন।
সোমবার সকালে পরশ বলেন, "আমাদের দলে ছ'জন সাংসদ আছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন দলকে রক্ষা করতে চেষ্টা করছেন। দলে কোনও ভাঙন হয়নি। আমরা দলকে রক্ষা করেছি।" চিরাগ সম্পর্কে পরশ বলেন, "সে আমার ভাইপো। তার প্রতি আমার কোনও রাগ নেই।" পরে তিনি বলেন, "আমি এনডিএ-তে রয়েছি। নীতীশ কুমার একজন ভাল নেতা। তিনি বিকাশ পুরুষ।"
এলজেপি-র কর্মীদের একাংশের মতে দলে বিদ্রোহ হওয়া অবশ্যম্ভাবী ছিল। চিরাগের খারাপ ব্যবহারের জন্য অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। গত বিধানসভা ভোটের পরে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পুরো বিহার ঘুরবেন। দলের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁদের অভিযোগের কথা শুনবেন। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি।