
শেষ আপডেট: 23 July 2023 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মণিপুরের (Manipur) জাতিদাঙ্গা শুরুর আশি দিন পর্যন্ত নীরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এখনও মুখ খোলেননি। যদিও অশান্তি শুরুর পর পরই কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলি রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে উত্তর-পূর্বের রাজ্যটির অশান্তি থামাতে পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছিলেন দ্রৌপদী মুর্মুকে।
এবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন (Hemant Soren) রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখে মণিপুর নিয়ে সরব হতে আর্জি জানালেন। দুই মহিলাকে নগ্ন করে ঘোরানোর ঘটনার উল্লেখ করে দেশের প্রথম জনজাতি রাষ্ট্রপতিকে সরেন লিখেছেন, ‘মণিপুরে যে ঘটনা ঘটেছে তাতে নীরব থাকা অপরাধ।’
প্রসঙ্গত, ২০০২-এ গুজরাত দাঙ্গার পর মণিপুরের মতো পরিস্থিতি দেশে কোথাও হয়নি। গুজরাত দাঙ্গার সময় রাষ্ট্রপতি কেআর নারায়ণন ঘটনার নিন্দা করে শান্তি ফেরানোর আর্জি জানিয়েছিলেন। গুজরাতে অস্থিরতা চলাকালেই নারায়ণনের স্থলাভিষিক্ত হন এপিজে আবদুল কালাম। তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর আপত্তি উড়িয়ে গুজরাতের দাঙ্গা বিধ্বস্ত এলাকায় গিয়ে দুই পক্ষের মানুষের সঙ্গেই কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, বর্তমান রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছর ঝাড়খণ্ডেরই রাজ্যপাল ছিলেন। রাজ্যপাল হিসাবে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। রাজ্যের মানুষের দাবিদাওয়ার কথা রাজভবনে ডেকে শুনতেন। এমনকী সরকার বিরোধী আন্দোলনেও তিনি আন্দোলনকারীদের ডেকে কথা বলেছেন।
দুই কুকি জনজাতির মহিলাকে নগ্ন অবস্থায় ঘোরানো এবং গণধর্ষণের ঘটনাটির উল্লেখ করে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘মণিপুরে আইনের শাসন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং এটি গভীরভাবে বেদনাদায়ক যে কিছু স্বার্থান্বেষীর মদতে জাতিগত হিংসা অবিরাম অব্যাহত রয়েছে। সাংবিধানিক ব্যবস্থা সেখানে ভেঙে পড়েছে।
প্রসঙ্গত সোরেন নিজে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ এবং ঝাড়খণ্ডে আদিবাসীরা প্রায় ২৬ শতাংশ। তাঁর অভিযোগ, ‘মণিপুরে এখনও পর্যন্ত ১৫২জন নিহত হয়েছেন। ঘরছাড়া প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। রাষ্ট্রপতিকে তিনি লিখেছেন, এমন নিষ্ঠুরতার মুখে নীরবতা একটি ভয়ানক অপরাধ এবং তাই আজ আমি আপনাকে গভীর যন্ত্রণার সঙ্গে এই চিঠি লিখতে বাধ্য হয়েছি।’
সরেন আরও লিখেছেন, ‘ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় গণতন্ত্র হওয়া সত্ত্বেও মণিপুরে শান্তি, ঐক্য, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক শাসনের অভাবনীয় ভাঙন প্রত্যক্ষ করছি। এতে আমরা মর্মাহত। রাজ্য সরকার নিজের জনগণকে রক্ষা করতে এবং অশান্তি প্রশমিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।’
চিঠিতে রাষ্ট্রপতিকে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘ন্যায়বিচার এবং সহানুভূতির নীতিগুলিকে সমুন্নত রাখতে আপনার অবিচল প্রতিশ্রুতি সর্বদা আমাদের সকলের জন্য পথনির্দেশক হয়েছে। মণিপুর এবং ভারত সংকটের এক অন্ধকারময় মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছে। আমরা আশা ও অনুপ্রেরণার শেষ উৎস হিসেবে আপনার দিকে তাকিয়ে আছি। যিনি মণিপুরের জনগণ এবং ভারতের সমস্ত নাগরিককে এই সংকটময় সময়ে আলো দেখাতে পারেন।’
জনজাতি রাষ্ট্রপতিকে জনজাতি মুখ্যমন্ত্রী সরেন লিখেছেন, ‘আমি আজ আপনার কাছে আবেদন করছি আগামীর পথ খুঁজে বের করা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মণিপুরের শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ করুন। আমরা আমাদের উপজাতী ভাই-বোনদের সঙ্গে এই ভয়ঙ্কর বর্বর আচরণ করতে পারি না, করা উচিত নয়। মণিপুরকে অবশ্যই নিরাময় করতে হবে। দেশবাসী হিসেবে আমাদের অবশ্যই মণিপুরের মানুষকে সাহায্য করতে হবে।’