টানা বৃষ্টিতে থমকে গেল কলকাতার সকাল। রাজ্যজুড়ে চলছে মৌসুমী বৃষ্টির দাপট। দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। সতর্কতা জারি সব জেলার জন্য।

বঙ্গে বর্ষা।
শেষ আপডেট: 18 June 2025 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দফায় দফায় নয়, একেবারে অবিরাম বৃষ্টি নেমে গেছে শহর কলকাতায়। সকাল থেকে আকাশ ঢেকে রেখেছে ঘন মেঘের চাদর। শহরের অলিগলি থেকে রাজপথ— সর্বত্রই যেন এখন জলের রাজত্বে। কোথাও পায়ের পাতা ভেজানো জল তো কোথাও হাঁটুজলে টইটম্বুপ। অফিস টাইমে শহরের রাস্তায় প্রবল যানজট। আবহাওয়ার এমন চেহারায় অনেকেই ছাতা-বর্ষাতি নিয়েও অফিস পৌঁছতে হিমশিম খাচ্ছেন।
কেবল কলকাতা নয়, রাজ্যজুড়ে এখন মৌসুমী বৃষ্টির এক প্রবল দাপট চলছে। মৌসুমী অক্ষরেখা ও নিম্নচাপের যুগলবন্দিতে তৈরি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। উত্তর ও দক্ষিণ, দুইবঙ্গেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দফায় দফায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে। কখনও মেঘ গর্জে উঠছে, কখনও দমকা হাওয়ায় কাঁপছে জানলা-দরজা।
কলকাতার তাপমাত্রা একধাক্কায় বেশ কিছুটা কমে গেছে। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.৪ ডিগ্রি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯১ থেকে ৯৮ শতাংশ। ইতিমধ্যেই ২০.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে শহরে।
দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে হাওয়া অফিস। হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে ২০০ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্কতা জারি হয়েছে। এসব অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা রীতিমতো জনজীবনকে ব্যাহত করতে পারে।
আজ ও কাল, এই দু'দিন ধরে কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দফায় দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরেও রবিবারের মধ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে।
উত্তরবঙ্গও পিছিয়ে নেই। সেখানে জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সঙ্গে থাকবে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়ার আশঙ্কা। দার্জিলিং, মালদা ও দুই দিনাজপুরেও একাধিক জায়গায় বৃষ্টির দাপট বাড়বে বৃহস্পতিবারের মধ্যে।
এদিকে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ছত্তীসগড়, কেরল, গুজরাট, ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়, মণিপুর সহ একাধিক রাজ্যেও প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। অরুণাচল প্রদেশ থেকে মহারাষ্ট্র—যেকোনও সময় প্রবল বৃষ্টিতে ভাসতে পারে একাধিক রাজ্য।
সমুদ্র উত্তাল থাকায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ অবস্থায় উপকূলের বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর বলছে, মৌসুমী বায়ু এই মুহূর্তে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। আরব সাগর, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড় ও ওড়িশার বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ঢুকে পড়েছে মৌসুমী বায়ু। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডেও মৌসুমী অক্ষরেখার বিস্তার ঘটেছে।
এই অবস্থায় দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশ ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর একটি সক্রিয় নিম্নচাপ অবস্থান করছে, যা ধীরে ধীরে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর জেরে সৃষ্টি হয়েছে প্রবল ঘূর্ণাবর্ত। একইসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ-সহ উত্তর-পশ্চিম ভারতের পার্বত্য এলাকায় পশ্চিমী ঝঞ্ঝা প্রবেশ করছে, যার প্রভাবও কিছুটা অনুভূত হতে পারে রাজ্যে।
সব মিলিয়ে শহর থেকে গ্রাম, এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে টানা বর্ষার চেহারা। কোথাও স্বস্তি, কোথাও অস্বস্তি। আসন্ন দিনগুলোয় ছাতা, রেনকোট আর জল ঠেলে চলার প্রস্তুতি রাখতে হচ্ছে সবাইকেই।