দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার আলিবাগে আছড়ে পড়ে সাইক্লোন নিসর্গ। তাতে অন্তত চারজন মারা গিয়েছেন বলে জানা যায়। এদিন রাতেই সাইক্লোন গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। মুম্বই শহরকে তাই সাইক্লোনের ধাক্কা সহ্য করতে হয়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়েছে বাণিজ্য নগরীতে। তাতে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
সারা দেশে যে শহরে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, সেই শহরটি হল মুম্বই। বুধবার সাইক্লোনের আশঙ্কায় কয়েকশ করোনা রোগীকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছিল। আবহবিদরা আশঙ্কা করছেন, বৃহস্পতিবার সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। সেজন্য এদিনও মানুষকে সমুদ্রতীরে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। সাইক্লোন নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পরে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে মুম্বইয়ে। এরই মধ্যে শোনা যায়, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে একটি বিমান ল্যান্ড করার সময় রানওয়ে থেকে বেরিয়ে গিয়েছে।
বাণিজ্যনগরী মুম্বই থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আলিবাগের যে ছবি ও ভিডিও পাওয়া গিয়েছে, তাতে দেখা যায়, প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে অনেক গাছ উপড়ে গিয়েছে। ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। রায়গড়ে দেওয়াল ভেঙে পড়ে মারা গিয়েছে এক কিশোর। আলিবাগে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে মারা গিয়েছেন ৫৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। রত্নগিরি ও পুনেতে একজন করে মারা গিয়েছেন। আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রবল বৃষ্টির ফলে বন্যার কবলে পড়তে পারে মুম্বই, থানে, পুনে ও পালঘর।
মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে মহারাষ্ট্রের মানুষের উদ্দেশে আবেদন জানান, দুর্যোগের সময় আপনারা ঘরে থাকবেন। বুধবার সাইক্লোনের ল্যান্ডফলের পরে তিনি বলেন, “প্রকৃতির রোষের সামনে কেউ দাঁড়াতে পারে না। কিন্তু বিপদের সময় মহারাষ্ট্র ঐক্যবদ্ধ আছে। এই ঐক্যই আমাদের সংকটের মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে।”