
শেষ আপডেট: 9 February 2021 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "তুমি কি পাষাণহৃদয়!" রেগেমেগে এমন কথা আমরা তো কতই বলেছি প্রিয়জনকে। কিন্তু কখনও ভাবতে পেরেছিলেন, সত্যিই পাথরের হৃদয় নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন ৫০ বছরের এক ব্যক্তি! সে অদ্ভুত ঘটনা অবশ্য তাঁর জীবদ্দশায় জানান দেয়নি, মৃত্যুর পরে ময়নাতদন্তে সামনে এল এই বিরল ব্যাপার।
গোয়া মেডিক্যাল কলেজের এই ঘটনায় সারা দেশের চিকিৎসক-মহল স্তম্ভিত। জানা গেছে, এটা একটা বিরল অসুখ, যাতে হার্টের কোষ-কলাগুলি শক্ত হতে হতে প্রায় পাথরেই পরিণত হয়। জানা গেছে, অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরে গোয়া মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত করা হয়। ঘটনাটি জুলাই মাসের। হাসপাতালের চিকিৎসক ডক্টর ভরত শ্রীকুমার জানিয়েছেন, দক্ষিণ গোয়ার একটি পার্ক থেকে উদ্ধার হয়েছিল মৃতদেহ। এর পরে ময়নাতদন্ত করার সময়ে বুকের চামড়া কেটে হার্ট দেখতে গিয়ে দেখা যায়, হার্টের বাম অলিন্দটি পুরো পাথুরে। সেটির কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়েই হৃদরোগে মারা গেছেন ওই ভদ্রলোক।ডক্টর ভরত শ্রীকুমার বলেন, "এমনই শক্ত হয়ে ছিল হার্টটি, সেটা পাথরের থেকে একটুও কম নয়। আমি হাসপাতালের সিনিয়র ডক্টরদের দেখাই বিষয়টি। তাঁরাই আমায় পরামর্শ দেন, হার্টের ওই পাথুরে অংশটি নিয়ে হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল স্টাডি করার জন্য।"
হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল স্টাডি হল একটি মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা, যা কোষ ও কলাগুলির এমন বিরল পরিবর্তনের কারণ অনুসন্ধান করে। সেখানেই জানা যায়, ক্যালসিয়াম অতিমাত্রায় জমে যাওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে। বস্তুত কিডনির স্টোন যা হয়ে থাকে, হার্টের পরিণতিও তাই হয়েছে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরে ডক্টর শ্রীকুমার একটি পেপার লেখেন 'আ হার্ট সেট অফ স্টোন' শিরোনামে। সেটি জাতীয় পুরস্কারও পায়। তার পরেই সামনে আসে এই বিরল ঘটনাটি।