দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার রাজস্থান হাইকোর্টের রায় গিয়েছে বিদ্রোহী নেতা শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীদের পক্ষে। কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে সাবে সুপ্রিম কোর্টে। তার আগেই শুক্রবার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন শচীন পাইলট। তিনি আর্জি জানালেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে কোনও আবেদন শোনার আগে সুপ্রিম কোর্ট যেন তাঁদের কথা শোনে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন রাজস্থানের স্পিকার। তাঁর আর্জি ছিল, রাজস্থান হাইকোর্টকে রায় দিতে বারণ করা হোক। তাঁর কাজে যেন হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ না করে। সুপ্রিম কোর্ট সেই আর্জি নাকচ করে দেয়। এদিন হাইকোর্ট রায় দেয়, এখনই স্পিকার শচীন সহ ১৯ বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে।
হাইকোর্ট ওই রায় দেওয়ার পরেই রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট দাবি করেন, সোমবার বিধানসভার অধিবেশন ডাকতে হবে। তিনি বলেন, আগেই রাজ্যপালের কাছে ওই দাবি জানিয়েছিলেন। রাজ্যপাল নাকচ করে দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "আমি বৃহস্পতিবার চিঠি লিখে রাজ্যপালকে অনুরোধ করেছিলাম, সোমবার থেকে বিধানসভার অধিবেশন বসুক। জবাবের জন্য আমরা সারা রাত অপেক্ষা করেছি। কিন্তু তিনি জবাব দেননি।" রাজ্যপাল অবশ্য বলেন, তিনি গেহলোটের প্রস্তাব এখনও নাকচ করেননি। তাঁর কথায়, "আমি এখনও এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিইনি। আইন মেনেই যা করার করব।" একটি মহল থেকে শোনা যায়, করোনা অতিমহামারীর জন্যই তিনি এখন অধিবেশন ডাকতে রাজি নন।
২০০ সদস্যের রাজস্থান বিধানসভায় গরিষ্ঠতা পেতে হলে চাই ১০১ টি আসন। কংগ্রেসের বিধায়কের সংখ্যা এর চেয়ে সামান্য বেশি। শচীনের শিবিরে আছেন ১৯ জন বিধায়ক। বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ৭২। এছাড়া কয়েকটি ছোট দল ও নির্দল বিধায়ক মিলিয়ে বিধানসভায় বিরোধীদের পক্ষে আছেন ৯৭ জন।
কংগ্রেস থেকে বার বার অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজস্থানে সরকার ফেলতে চান শচীন। তিনি অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা কংগ্রেস ছাড়ছেন না। দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। অশোক গেহলোট অভিযোগ করেছেন, বিজেপি টাকা দিয়ে বিধায়ক কিনতে চায়। কংগ্রেসের বহু বিধায়ককে বিপুল অঙ্কের অর্থ দিতে চাওয়া হয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত কংগ্রেস বিধায়কদের সঙ্গে ডিল করছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ।