
অনশন মঞ্চের ছবি
শেষ আপডেট: 13 October 2024 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময় যত গড়াচ্ছে জুনিয়র চিকিৎসকদের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। টানা ন’দিন ধর্মতলার মঞ্চে আমরণ অনশন চালাচ্ছেন তাঁরা। রবিবার আট জুনিয়র চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট সামনে এসেছে। সেখানে চোখ রাখলেই বাড়ছে উদ্বেগ।
রিপোর্টে একদিকে যেমন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসক অনিকেত, অনুষ্টুপ ও অলোকের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তেমনই অনশনরত অবস্থায় ধর্মতলার মঞ্চে থাকা জুনিয়র চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যের খবর সামনে এসেছে।
চিকিৎসকদের তরফে জানানো হয়েছে, আইসিইউতে ভর্তি অলোক, অনিকেত ও অনুষ্টুপ। এঁদের মধ্যে অনুষ্টুপের রক্তচাপ ১১৮/৯৪। বাকি দুজনের অবস্থা আপাতত কিছুটা স্থিতিশীল হলেও চিন্তা বাড়ছে।
রবিবার সকালেই অনশনরত চিকিৎসক তনয়া পাঁজা, স্নিগ্ধা হাজরা, সায়ন্তনী ঘোষ হাজরা, পুলস্ত্য আচার্য, অর্ণব মুখোপাধ্যায় এবং উত্তরবঙ্গে অনশনরত সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পালস রেট, রক্তচাপ পরীক্ষা হয়েছে। প্রত্যেকেই বেশি-কম দুর্বল রয়েছেন বলে খবর।
সকলের রক্তচাপ ধীরে ধীরে কমার কারণে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। শরীরে জলের পরিমাণ একেবারে কম থাকার কারণে পেশিতেও টান ধরতে শুরু করেছে দু'এক জনের। সঙ্গে মাথা ঘোরা, মাথা যন্ত্রণা তো আছেই। চিকিৎসকদের আশঙ্কা এভাবে চলতে থাকলে প্রথমেই কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে।
তবে শেষ দেখে ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে চিকিৎসকরা অসুস্থ শরীর নিয়েই দিনের পর দিন লড়াই করছেন। উৎসবে না ফিরে প্রতিদিন একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের উপর চাপ বাড়াচ্ছেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, বর্তমানে অনশনরত স্নিগ্ধা হাজরার রক্তচাপ রয়েছে ১০২/৭২, অন্যদিকে পুলস্ত্যর রক্তচাপ ১১২/৮৬। আবার সায়ন্তনীর রক্তচাপ রয়েছে ১০৬/৭৮।
এই মুহূর্তে ধর্মতলায় আমরণ অনশন করছেন সাত জুনিয়র ডাক্তার। উত্তরবঙ্গে রয়েছেন আরও এক জন। ১৮০ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে অনশনের। ইতিমধ্যে তিন জন অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে।
শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্টে অনশনরত চিকিৎসকদের পালস রেট ও সিবিজি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অর্ণব, স্নিগ্ধা এবং সায়ন্তনীর সিবিজি বর্তমানে অত্যন্ত কমে গিয়েছে বলে খবর। অর্ণবের সিবিজি ৬৬, সিগ্ধার ৬৮ ও সায়ন্তনীর সিবিজি কমে দাঁড়িয়েছে ৬৯-এ। এদিকে রবিবার দুপুরেই অনশনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের অনশনকারী জুনিয়র ডাক্তার অলোক ভার্মা। আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
প্রসঙ্গত, প্রতিবাদ মিছিল, বৈঠক, অবস্থানের পরে জুনিয়র ডাক্তাররা আমরণ অনশন শুরু করেছেন। এখনও দশ দফা দাবিতে অনড় জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁদের সমর্থনে সাধারণ মানুষ অনশন মঞ্চে সামিল হয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ করছেন। ছাত্রদের সংহতি জানিয়ে এখনও অবধি বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের ২৫০ জন সিনিয়র ডাক্তার গণইস্তফা দিয়েছেন।