
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 29 August 2024 22:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আশঙ্কায় সত্যি হল। স্বাস্থ্য দফতরের চিঠি নিয়ে কাজে যোগ দিতে গিয়ে পড়ুয়াদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন আরজি করের চেস্ট মেডিসিনের বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অরুণাভ দত্ত চৌধুরী।
পড়ুয়াদের সাফ কথা, 'ওনার বিরুদ্ধে এক ডাক্তারি ছাত্রী খুনের ঘটনায় নানা অভিযোগ সামনে আসছে। এই ধরনের অভিযোগ থাকা অধ্যাপক-চিকিৎসক এখানে এলে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। আমরা কোনও অবস্থাতেই ওনাকে মেনে নেব না।'
মেডিক্যাল সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকার পর এক সপ্তাহ বাদে বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দিতে মালদহ মেডিক্যালে পৌঁছন আরজি করের ওই অধ্যাপক চিকিৎসক। তিনি অধ্যক্ষর রমে যেতেই বাইরে বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়ারা।
প্রসঙ্গত, আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রী খুনের ঘটনায় আন্দোলিত সমাজ। শুধু জুনিয়র চিকিৎসকরা নন, বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে পথে নেমেছেন সর্বস্তরের মানুষ। তাতে সামিল হয়েছেন মালদহ মেডিক্যালের পড়ুয়ারাও। গত বুধবার সন্ধেয় স্বাস্থ্য ভবন এক নির্দেশিকায় আরজি করের অধ্যক্ষ সুহৃতা পাল, সুপার তথা উপাধ্যক্ষ বুলবুল মুখোপাধ্যায়, সহকারী সুপার সুচরিতা সরকার এবং চেস্ট মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান অরুণাভ দত্ত চৌধুরীকে বদলির নির্দেশ জারি করে। অরুনাভবাবুকে শিক্ষক-চিকিৎসক হিসাবে বদলি করা হয়েছে মালদহ মেডিক্যালে।
বিষয়টি জানতে পারার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে মালদহ মেডিক্যালের পড়ুয়ারা। সেদিন থেকেই তাঁরা স্বাস্থ্য ভবনের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। পড়ুয়ারা এদিনও সাফ জানিয়েছেন, 'জেলার মেডিক্য়াল কলেজ মানে তো ডাস্টবিন নয়, যে যাঁকে তাঁকে এখানে পাঠিয়ে দেবে আর আমরা মেনে নেব।'
এ ব্যাপারে মালদহ মেডিক্যালের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতীম মুখোপাধ্যায় বলেন, “জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।" তবে এব্যাপারে আরজি করের চেস্ট মেডিসিনের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অরুণাভ দত্ত চৌধুরীর কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রী খুনের ঘটনার পর হাসপাতালের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে ন্যাশনাল মেডিক্যালের সুপার পদে পাঠিয়েছিল রাজ্য। যদিও পড়ুয়া বিক্ষোভের জেরে তিনি কাজে যোগ দিতে পারেননি। এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছিল রাজ্যকে। আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার পর সন্দীপ ঘোষকে ১৫ দিনের ছুটিতে পাঠায় রাজ্য।