দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোটখাট চেহারার একটা লোকের দশ গজের দৌড় আর বাঁ পায়ের ইনস্টেপ। প্রায় ৩৫গজ দূর থেকে বুলেটের গতিতে ছুটে যাচ্ছে গোলের দিকে। অসহায় হয়ে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক দেখছেন, বলটা জালে জড়িয়ে গেল। গোলদাতার নাম ব্রাজিলের কিংবদন্তী ফুটবলার রবার্তো কার্লোস আর প্রতিপক্ষের তে'কাঠির নীচে দাঁড়ানো ভদ্রলোক আরও এক জন কিংবদন্তী। ফ্রান্সের ফ্যাবিয়ান অ্যালিয়ান বার্থেজ।
১৯৯৭ সালের একটি ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স ম্যাচের এই ক্লিপিং টুইট করে অনেক ফুটবলপ্রেমীরই স্মৃতি তাজা করে দিলেন শিল্পপতি হর্ষ গোয়েঙ্কা। লিখলেন, "ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফ্রি কিক।" হর্ষ গোয়েঙ্কা যে বছরের ক্লিপিং টুইট করেছেন, তার পরের বছরই ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপের জিতেছিল জিনেদিন জিদান, বার্থেজদের ফ্রান্স।
https://twitter.com/hvgoenka/status/1196084481486020608
রবার্তো কার্লোস। অনেকে বলেন, দুটো ফুসফুস নিয়ে খেলতে নামতেন তিনি। লেফট ব্যাকে খেললেও, ওভারল্যাপে প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ শানানো ছিল তাঁর মজ্জায়। প্রতিপক্ষের কাউন্টার অ্যাটাকে উঠলে দ্বিগুণ গতিতে নিজের অর্ধে পৌঁছে গিয়ে রক্ষণ সামলানো ছিল তাঁর জন্মগত প্রতিভা। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কোচ লুই ফিলিপ স্কোলারি কার্লোস সম্পর্কে বলেছিলেন, "এই ব্রাজিল দলে প্রতিভার শেষ নেই। কিন্তু অতিমানব এক জনই। রবার্তো কার্লোস।"
ফুটবল ইতিহাসের সেরা ফ্রি কিক কোনটা, তা নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে। ২০০২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড বনাম ব্রাজিল ম্যাচে প্রায় মাঝ মাঠ থেকে ফ্রি কিকে গোল করেছিলেন ব্রাজিলের রোনাল্ডিনহো। ব্রিটিশ গোলরক্ষক ডেভিড শিম্যানকে দাঁড় করিয়ে জাল নাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। অনেকে বলেন ফুটবল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ফ্রি কিক ওটাই।
যদিও ওই বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচে চিনের বিরুদ্ধে এইরকম ফ্রি কিক থেকেই গোল ছিল কার্লোসের। গত কয়েক বছরে মেসি, রোনাল্ডো, নেমাররাও ফ্রিকিক থেকে বহু চোখ ধাঁধানো গোল করেছেন। সে বিতর্ক থাক।
তবে সন্দেহ নেই, শিল্পপতি গোয়েঙ্কা হঠাৎ করেই দু'দশক আগের স্মৃতি উস্কে দিয়েছেন।