
শেষ আপডেট: 30 April 2022 10:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কে চন্দ্রশেখর বান্তওয়াল ব্লকের বিত্তল গ্রামের বাসিন্দা। ২৪ এপ্রিল বিয়ে করেছেন তিনি। বিয়েতে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আবার অনেকেই হাজির থাকতে পারেননি। বিশেষ করে মুসলিম প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধবরা (Harmony)।
আরও পড়ুন: অর্জুনকে দিল্লি তলব, ফোন পীযূষ গোয়েলের
রমজান মাস চলছে (Harmony)। তাঁদের অনেকেই রোজা রাখছেন। ফলে এখনকার খাওয়াদাওয়ার রুটিন বদলে গিয়েছে তাঁদের। অনুষ্ঠান বাড়ির সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার সময়ের সঙ্গে তা মিলবে না বলাই বাহুল্য। ফলে বিয়ের ভোজে তাঁরা অংশ নিতে পারেননি।

চন্দ্রশেখর তাই রোজাদার মুসলিম বন্ধু ও প্রতিবেশীদের জন্য স্থানীয় মসজিদে গতকাল ইফতার পার্টির আয়োজন করেছিলেন। জালালিয়া জুমা মসজিদের ইমাম সম্প্রীতি রক্ষার এই অভিনব আয়োজনকে সাধুবাদ জানাতে নবদম্পতিকে আশীর্বাদের পাশাপাশি তাঁদের সংবর্ধনারও আয়োজন করেছিলেন। প্রতিবেশীরা অনেকেই হাজির ছিলেন।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, ধর্ম পরিচয়কে পাশে ঠেলে প্রতিবেশীর প্রতি দরদী হওয়ার এমন নজির হয়তো বিরল নয়। কিন্তু, বিত্তল গ্রাম এবং জালালিয়া মসজিদ, দুটিই অবস্থিত কর্নাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলায় (Karnataka)। মাস দুয়েক হল যে জেলাটি সাম্প্রদায়িক অশান্তির কারণে বারে বারে খবরের শিরোনাম হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনে হিজাব পরতে মানা, মসজিদে আজানে মাইক বাজানোতে আপত্তি, হিন্দুদের মেলায় মুসলিম ব্যবসায়ীদের স্টল দিতে আপত্তি তোলা, সাম্প্রদায়িক উস্কানি ঘিরে অশান্তির শেষ নেই কর্নাটকে। এমন অসহিষ্ণু আবহের মাঝে মুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে বিয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে তাঁদের সুবিধার্থে হিন্দু যুবকের মসজিদে ইফতারের আয়োজন সম্প্রীতিকে আগলে রাখতে স্রোতের বিরুদ্ধে হাঁটা তো বটেই।