
শেষ আপডেট: 13 May 2022 04:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাস কয়েক আগে চলে গেছিলেন সুরের সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। তাঁর সেই মরদেহের সামনে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে উপচে পড়েছিল মানুষের ঢল। বলিউড তারকারাও অনেকেই হাজির হয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকরকে শেষ দেখা দেখতে। সে সময়েই মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে লতা মঙ্গেশকরের মরদেহের সামনে তৈরি হয়েছিল এক অসামান্য ফ্রেম (Harmony)। দেখা যায়, শায়িত লতার সামনে দুয়ার ভঙ্গিতে দুই হাত উঁচিয়ে রেখেছেন শাহরুখ খান। আর তাঁর ঠিক পাশে রয়েছেন তাঁর ম্যানেজার পূজা, দু’হাত জোড় করে লতাকে প্রণাম করছেন তিনিও।
শাহরুখ খান, পূজা দাদলানি- দুজনের ধর্ম বিশ্বাস ভিন্ন। তাই শেষ শ্রদ্ধা জানানোর ভঙ্গিও তাঁদের আলাদা। লতা মঙ্গেশকরের শেষযাত্রায় এই ছবি যেন ধর্মনিরপেক্ষ ভারতবর্ষের প্রতিরূপ হয়ে উঠে এসেছে। ছবি দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন নেটিজেনরা। টুইটারে এই ছবি ব্যাপক ভাইরালও হয়।

এবার সন্তুর-সম্রাট শিবকুমার শর্মা চলে গেলেন। এবং আবারও ভাইরাল হল আরও একটি ফ্রেম। কী সেই দৃশ্য?
দেখা যাচ্ছে, শিবকুমারের চিতা জ্বলছে একটি বেদির উপর। আশপাশ ফাঁকা। সকলেই যেন শেষযাত্রায় একা ছেড়ে দিয়েছেন ৮৪ বছরের শিল্পীকে। কেবল চিতার সামান্য তফাতে দাঁড়িয়ে আছেন সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরা একজন। একা। চিতার আগুনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন চিনি। তিনি ওস্তাদ জাকির হুসেন। তাঁর এই ছবিটিই ভাইরাল হয়েছে নেট--দুনিয়ায়। যা দেখে সকলে বলছেন, শিল্পের কোনও ধর্ম হয় না, শিল্পীর কোনও বিভাজন হয় না।

শুধু এই চিতার পাশে দাঁড়িয়ে থাকাই নয়, জাকির হুসেনের আরও একটি ছবি সামনে এসেছে এদিন। শিবকুমারের শেষযাত্রায় কাঁধ দিচ্ছেন তিনি। তেরঙায় মোড়া দেহটি বড় যত্নে কাঁধে তুলে নিয়েছেন। চোখের দৃষ্টি শূন্য। যেন প্রিয়তম বন্ধু-শিল্পীর শেষতম পথটুকু সঙ্গে হাঁটার বেদনায় ছেয়ে আছেন তিনি।

এ ছবি দেখে সকলেই বলছেন, 'এটাই ভারতবর্ষ, এটাই আমাদের দেশ। এভাবেই হিন্দু শিল্পীর সৎকারে মিশে যায় মুসলিম সহ-শিল্পীর চোখের জল।'
তবে একাংশের বিরুদ্ধমতও আছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই যদি ভারতবর্ষের ছবি হবে, এটাই যদি হওয়ার কথা, তাহলে এ নিয়ে আলাদা করে উচ্ছ্বাস প্রকাশের কী আছে। এক শিল্পী আর এক শিল্পীর প্রয়াণে ব্যথিত হবেন, শোক জ্ঞাপন করবেন, সেটাই তো স্বাভাবিক। তাহলে সেই স্বাভাবিক শোকজ্ঞাপনের চিত্রকে 'অসামান্য' ভেবে এত ভাইরাল করার কী আছে! তদুপরি, শোক ব্যক্তিগত। তা নিভৃতি দাবি করে। সে মুহূর্তটুকুর মধ্যে ধর্মের প্রবেশ না হওয়াই ভাল।
এ প্রশ্নের উত্তরও যে সহজ-- তাও স্পষ্ট করেছেন নেটিজেনরাই। গত কয়েক বছর ধরে দেশজুড়ে যখন ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা অনেকটা বেড়ে গেছে, ধর্মীয় বিদ্বেষের নানা ঘটনাবলি অনেক বেশি করে দখল করেছে সংবাদপত্রের শিরোনাম, তখন এই ছবি নিয়ে চর্চা হওয়া জরুরি।
তবে এ বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, যে শিবকুমারের চিতার পাশে জাকির হুসেনের এ ছবিটি শান্তি ও স্বস্তির বার্তা বয়ে আনে।
কাঞ্চনজঙ্ঘায় ফের ভারতীয় কন্যা! এক মাসে চার আট হাজারি শৃঙ্গ ছুঁতে চলেছেন বলজিৎ