দ্য ওয়াল ব্যুরো: নম্বর কম দেওয়ার অভিযোগে প্রতিবাদে সামিল হলেন অভিভাবকরা। বাগবাজারের রামকৃষ্ণ সারদা মিশন ভগিনী নিবেদিতা গার্লস স্কুলে শিক্ষকদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলেন অভিভাবকেরা।
স্কুল পড়ুয়া ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বরাবরই মধ্য শিক্ষা পর্ষদের নিয়ম না মেনে স্কুল কমিটির নিজস্ব নিয়মেই চলে পরীক্ষা, খাতা দেখা ও ফলাফল প্রকাশ। এ বছর, মহামারীর জেরে মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়নি। তার বদলে, নবম শ্রেণির পরীক্ষার গড় ও দশম শ্রেণিতে স্কুলের 'ইন্টারনাল ফর্মেটিভ ইভ্যালুয়েশনে'র প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই মার্কশিট তৈরি হয়েছে।
গতকালই প্রকাশ হয়েছে মাধ্যমিকের ফলাফল। এ বছর পাশের হার ১০০ শতাংশ। নবম শ্রেণিতে যেহেতু স্কুল তার নিজস্ব নিয়মে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেছে ফলে মাধ্যমিকে মার্কশিটে কমে গিয়েছে মোট প্রাপ্ত নম্বর। এমনটাই অভিযোগ ওই অভিভাবকদের।
আর এর জেরেই অন্য স্কুলে একাদশে ভর্তি হতে পারছেন না পড়ুয়ারা, এমনটাই দাবি। জানা গেছে, এই স্কুলে এবছর ১০৫ জন পরীক্ষা দিয়েছে। সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর ৬৩৬।
বুধবার স্কুলচত্বরে প্রায় ২০০ জন অভিভাবক বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
বাগবাজারের নিবেদিতা স্কুল থেকে বরাবরই মাধ্যমিকে ভাল রেজাল্ট শোনা যায়। মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১০০ শতাংশই নিয়ম করে পায় ফার্স্ট ডিভিশন, এমনকি লেটার মার্কসও। বছর কয়েক আগে এক থেকে দশের মধ্যেও শোনা গিয়েছিল এই মিশনারি স্কুলটির ছাত্রীর নাম।
স্কুলের এক প্রাক্তনীর কথায়, বরাবরই চেপে নম্বর দেন এই স্কুলের শিক্ষিকারা। বিশেষত নবম শ্রেণীতে যেন ইচ্ছে করেই খানিকটা চেপে পড়ুয়াদের নম্বর দেওয়া হয়। কেন? উদ্দেশ্য একটাই, যাতে দশমের পরীক্ষার জন্য, জীবনের সবথেকে বড় পরীক্ষার জন্য আরও ভাল করে পড়াশোনা করে ছাত্রীরা।
কিন্তু করোনা আবহে স্কুলে পঠনপাঠনের চেনা ছবি বদলে গেছে। অনলাইনে পঠনপাঠন, এমনকি পরীক্ষাও হচ্ছে বাড়ি বসে অনলাইনে। রীতি মেনেই হয়তো নবমে হাত খুলে নম্বর দেননি নিবেদিতা স্কুলের শিক্ষিকারা। কারণ তখনও জানা ছিল না মাধ্যমিকের রেজাল্ট তৈরি হবে পরীক্ষা ছাড়াই, নবম শ্রেণীর নম্বরের ভিত্তিতে।
সেই কারণেই অভিভাবকদের রোষের মুখে স্কুল কর্তৃপক্ষ, মনে করছে প্রাক্তনীরা।