ব্লক কমিটির রদবদলের জেরে ফের উত্তাল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর।
.jpeg.webp)
ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 10 September 2025 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্লক কমিটির রদবদলের জেরে ফের উত্তাল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর (Maldah, Harishchandrapur)। একদিকে পদপ্রাপ্তি, অন্যদিকে অপসারণ—তার জেরেই তৃণমূলের অন্দরে প্রকাশ্যে গোষ্ঠী সংঘর্ষ (Group clash)। মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রীর অনুগামীদের তাণ্ডবে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। বিস্ফোরক অভিযোগ, মন্ত্রী তাজমুল হোসেনের ভাই জম্মু রহমানের নির্দেশেই একের পর এক বাড়ি, দোকানে হামলা। হুমকি দেওয়া হয়েছে খুনেরও।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ঘটনার কেন্দ্রে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিবর্তন। সভাপতি পদ খুইয়েছেন বুলবুল খান ঘনিষ্ঠ জিয়াউর রহমান। নতুন সভাপতি হয়েছেন মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ মোশারফ হোসেন। যুব তৃণমূলের সভাপতিতেও রদবদল—দায়িত্ব পেয়েছেন বিজয় দাস। অভিযোগ, যাঁকে এর আগে কখনও তৃণমূলের পতাকা হাতে দেখা যায়নি, তাকেই ‘ম্যানেজ করে’ বসানো হয়েছে শীর্ষ পদে।
এর পরই রাতের অন্ধকারে একের পর এক হামলার অভিযোগ। টার্গেট হন বুলবুল ঘনিষ্ঠরা। হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যা মন্দিরা দাসের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাঁর স্বামী পূজন দাসকে খুনের হুমকি, গাড়ি ভাঙচুর, দরজায় লাথি মেরে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পূজন দাস নিজেও যুব সভাপতি পদের দৌড়ে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
তাঁর পরেই ভাঙচুর করা হয় ব্লক তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সাহেব দাসের রেস্তোরাঁতেও। অভিযোগের আঙুল সঞ্জীব গুপ্তা, বিজয় দাস, দুর্জয় দাস, ও জাবির হোসেন—এই চারজন তৃণমূল নেতার দিকে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছেন স্বয়ং মন্ত্রীর ভাই জম্মু রহমান। পুরনো অভিযোগ ঘাঁটলে বেরিয়ে আসে আরও বিস্ফোরক তথ্য—মন্দিরা দাস মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জম্মুর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর দাবি, সেই ‘শাস্তি’ দিতেই এদিন রাতের আঁধারে এই হামলা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী, ছিলেন আইসিও। কিন্তু হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বুলবুল অনুগামীরা। আগুন ধরিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে চলে দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর, বিক্ষোভে যোগ দেন পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা স্বপন আলি-সহ একাধিক নেতা। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ তুলে দেয়।
গোটা ঘটনায় শাসকদলের অন্দরেই তীব্র অস্বস্তি। ক্রমেই জোরাল হচ্ছে ‘গোষ্ঠী-রাজনীতি’র চাপানউতোর। ঘটনার নিন্দা করে বিজেপির কটাক্ষ—“তৃণমূলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেই শুরু হয়েছে শেষের সুর।”
তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে, মন্ত্রী তাজমুল হোসেন জানিয়েছেন—“ঘটনার খবর নিচ্ছি। প্রশাসন কাজ করছে।”