
শেষ আপডেট: 29 June 2023 18:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অফুরন্ত জীবনীশক্তিতে ভরপুর থাকতেন চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্টবেঙ্গলের যে কোনও অনুষ্ঠানে তাঁকে মধ্যমণি হিসেবে দেখা যেত প্রাক্তন অধিনায়ককে। লাল হলুদের থিম সংয়ের সঙ্গে তাঁকে নাচতেও দেখা গিয়েছে নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে।
সবই স্মৃতিতে ভাসছে। লাল হলুদের প্রাক্তনরা বৃহস্পতিবার সকালে ছিলেন চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষযাত্রায়। মিহির বসু থেকে শ্যাম থাপা, কিংবা ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায় থেকে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, সবাই মুখ খুলেছেন নামী ব্যক্তিত্বের প্রয়ানে।
মিহির বসু: অফুরন্ত জীবনী শক্তিতে ভরপুর ছিলেন চন্দন দা। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন, কিন্তু সেটা কাউকে বুঝতে দেননি, নিজেও সে সবের তোয়াক্কা করতেন না। কিছুদিন আগেও আমার সাথে কথা হয়েছিল। কি যে ভালমনের মানুষ ছিলেন, বলে বোঝানো যাবে না। ওঁর পরিবারকে সমবেদনা জানাবার ভাষা আমার নেই।
ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়: চন্দনদা ছিলেন প্রাণবন্ত, সব সময় হাসিখুশি একজন মানুষ I অনেক কঠিন সময়েও সবাই যখন কোনও কিছু নিয়ে খুব চিন্তিত, তখন চন্দনদা এসে খুব সুন্দর ভাবে পরিস্থিতি সহজ করে দিতেন। আমার মনে সব সময় তাঁর সদাহাস্য চেহারাটাই ভাসে। আমি তাঁর খেলা না দেখলেও শুনেছি খুব ভাল ফাইটার ছিলেন।
বিকাশ পাঁজি: চন্দনদা ছিলেন আমাদের অভিভাবক I এই তো বছর দুয়েক আগে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে ইনভেস্টরদের চুক্তি নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। শতবর্ষ প্রাচীন ক্লাবের হস্তান্তর হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আমরা প্রাক্তন খেলোয়াড়রা তখন ক্লাবের পাশে সমবেত হয়েছিলাম, যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন চন্দনদা। শুধু নেতৃত্বে থাকাই নয়, দীপ্ত কন্ঠে বলেছিলেন, আমার জীবদ্দশায় ক্লাবের কোনও ক্ষতি হোক হতে দেব না।
মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য: চন্দনদা ছিলেন আমাদের মত খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা। আমি যখন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে খেলতে শুরু করি, চেষ্টা করতাম ক্লাবের প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের খেলোয়াড়ি দিনগুলোর কথা জানার। আসলে আমি নিজেকে অনুপ্রাণিত করতাম তাঁদের লড়াইয়ের ঘটনাগুলো শুনে।
বিশেষ করে মোহনবাগানের সাথে খেলার আগে সেই আবেগটা খুব কাজে দিতI চন্দনদা সেসময় আমাকে নানা ভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন
শ্যাম থাপা: ১৯৬৬ সালে আমি তখন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের নতুন সদস্য, একদম ছোট্ট বয়ে ছিল আমার। তখন আমাকে নানা ভাবে গাইড করেছিলেন চন্দনদা। উনি সেই বছর ছিলেন ক্লাবের অধিনায়ক।
লিগের খেলায় রাজস্থানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর চন্দনদা আমাকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন। প্রতি ম্যাচে আমাকে ভীষণ ভাবে উদ্বুদ্ধ করতেন।