দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতে পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য কয়েক বছর আগে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (ইনভিট) নামে এক তহবিল গঠন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তা অনেকটা মিউচুয়াল ফান্ডের মতো। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিনিয়োগকারীদের সম্মেলনে সড়ক পরিবহণ ও হাইওয়ে মন্ত্রকের সচিব গিরিধর আরমানে বলেন, ওই ফান্ড গঠনের অনেক সুফল পাওয়া গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার দেশ জুড়ে নতুন ৫০ হাজার কিলোমিটার হাইওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। তার মধ্যে বেশিরভাগ চার ও ছয় লেনের।
হাইওয়ে সচিব বিনিয়োগকারীদের কাছে আহ্বান জানান, ইনভিটে অর্থলগ্নি করুন। তাতে আকর্ষণীয় রিটার্ন পাওয়া যাবে। সেজন্য খুব বেশি ঝুঁকিও নিতে হবে না।
কেন্দ্রীয় সরকার ইনভিট গঠনের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়ে বলেছিল, এর ফলে তৈরি হয়ে যাওয়া রাস্তায় টোল বসিয়ে একবছর আয় করতে পারবে ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া। মন্ত্রিসভার এক বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন সড়ক তৈরি হলে অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবে। কারণ এর ফলে অনেক পণ্য পরিবহণের খরচ কমবে। অনেকে গাড়ি কিনতে আগ্রহী হবেন।
করোনা পরিস্থতির মধ্যেও গাড়ি শিল্প চাঙ্গা হয়ে ওঠার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (সিয়াম)-এর তরফে জানানো হয়েছে, গত বছর অগস্ট মাসে ভারতে মোট গাড়ি বিক্রি হয়েছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ১২৯টি। সেই তুলনায় এই বছর অগস্ট মাসে গাড়ি বিক্রি বেশি হয়েছে। এই বছর অগস্টে মোট ২ লাখ ১২ হাজার ৯১৬টি গাড়ি বিক্রি হয়েছে। যদিও জুলাই মাসে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৭৯টি গাড়ি বিক্রি হয়েছিল। অর্থাৎ জুলাই মাসে গাড়ি বিক্রি কমেছিল ৩.৮৬ শতাংশ।
গাড়ি বিক্রি বাড়ার কারণ হিসেবে কিন্তু করোনাভাইরাস ও লকডাউনকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের বক্তব্য, করোনা সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্ক ও লকডাউনের ফলে গণ পরিবহণে সমস্যা, এই দুই কারণের ফলে গাড়ি বিক্রি বাড়ছে। কারণ, কোভিড-১৯ মানুষকে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা নিয়ে সচেতন করছে। এর ফলে অনেকেই আর ভিড় বাসে, ট্রেনে উঠতে চাইবেন না। নিজের গাড়িতে সুরক্ষিত যাত্রা করতে চাইবেন। সেই কারণেই লকডাউন ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতে বাড়তে শুরু করেছে গাড়ি বিক্রি।
এর আগে এপ্রিল মাসে একই ইঙ্গিত দিয়েছিল মারুতি সুজুকি। তারা জানিয়েছিল করোনাভাইরাস ভারতের গাড়ি শিল্পের জন্য সুদিন নিয়ে আসতে পারে। মারুতি সুজুকির চেয়ারম্যান আর সি ভার্গব সংবাদমাধ্যমকে জানান, লকডাউন শেষ হলে ভারতে গাড়ি বিক্রি অনেকটা বাড়তে পারে। লকডাউনের পরেও সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে মানুষ সামাজিক দূরত্ব মানবে। আর তার জন্যই বাড়বে গাড়ি বিক্রি। তাঁর কথায়, “ভারত আর আগের মতো থাকবে না, মানুষের মানসিকতা অনেকটা বদলে যাবে।”