দ্য ওয়াল ব্যুরো : শীঘ্র ভারতে যাতে মারিজুয়ানা আইনসিদ্ধ হয়, সেজন্য উঠেপড়ে লেগেছেন একদল বিজ্ঞানী। তাঁদের সঙ্গে আছেন সমাজকর্মীরাও। তাঁরা মনে করেন, মারিজুয়ানা অনেক অসুখে কাজে লাগতে পারে। সেকথা ভেবে মারিজোয়ানাকে আইনসিদ্ধ করা উচিত।
মারিজুয়ানার আর এক নাম ক্যানাবিস। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জম্মুর কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ, বম্বে হেম্প সোসাইটি, কয়েকজন বিজ্ঞানী, জনপ্রতিনিধি ও নানা ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করেন, ক্যানাবিসের মধ্যে কান্নাবিডিওল (সিবিডি) নামে এক রাসায়নিক থাকে। আমাদের সংশয়াতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে, ক্যানাবিস মানুষের পক্ষে লাভজনক। যাঁরা দেশের নীতি তৈরি করেন, তাঁদের কাছে সব বুঝিয়ে বলতে হবে। তার পরে যেতে হবে শিল্পপতি মহলের কাছে।
কংগ্রেস নেতা শশী থারুর ইতিমধ্যে মারিজুয়ানা আইনসিদ্ধ করার দাবি সমর্থন করেছেন। ভারতে সেই সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকে ক্যানাবিসের ব্যবহার হয়ে আসছে। ক্যানাবিস থেকে হাসিস, গাঁজা ও চরস তৈরি হয়। ১৯৮৬ সালে এদেশে ক্যানাবিসকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।
ক্যানাবিসের মধ্যে টেট্রাহাইড্রোক্যান্নাবিনল নামে এক ধরণের রাসায়নিক থাকে। তাতে নেশা হতে পারে ঠিকই, কিন্তু একইসঙ্গে যন্ত্রণা কমাতে, নার্ভ ও পেশীর অসুখ নিরাময়েও তা ভালো কাজ দেয়। অন্যদিকে সিবিডি নামে রাসায়নিকটি স্তনের ক্যানসারের কোষ ধ্বংস করে, হাড় ভালো রাখতে সাহায্য করে, নানারকম প্রদাহ বন্ধ হতে সাহায্য করে। এমনকী অ্যালকোহল এবং নিকোটিনের নেশা কাটাতেও চিকিৎসকরা ওই রাসায়নিকটির সাহায্য নেন।
টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের ডায়রেক্টর রাজেন্দ্র বাদওয়ে বলেন, ক্যানাবিস টিউমারের চিকিৎসায় ভালো কাজ দেবে। আমাদের দেশের এক বড় সংখ্যক মানুষ মানসিক রোগে ভোগেন। ক্যানাবিস দিয়ে ডিপ্রেসনের চিকিৎসা হতে পারে । এইমসের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডাঃ অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, প্রায় প্রত্যেক ক্যানসার রোগীই ডিপ্রেশনে ভোগেন। ক্যানাবিস ব্যবহার করলে তাঁদের উপকার হবে।
বেশ কয়েক দশক আগে আমেরিকায় হিপিরা ক্যানাবিসের নেশা করত। কিন্তু হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্বের নানা প্রান্তে তা ওষুধ হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। খ্রিস্টের জন্মের দুহাজারেরও বছর বেশি আগে চিনে ম্যালেরিয়া, বাত, ম্যালেরিয়া ও স্মৃতিভ্রংশ রোগে ক্যানাবিস ব্যবহার করা হত। আধুনিক যুগে ক্যানাবিস নিয়ে গবেষণায় জানা গিয়েছে, স্কিৎজোফ্রেনিয়া এবং মাইগ্রেনে তা ভালো কাজ দেয়। সরকারের কাছে ক্যানাবিসের এই গুণগুলি তুলে ধরে তাকে আইনসিদ্ধ করার দাবি জানাবেন বিজ্ঞানীরা।