দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের গোড়াতে একাধিক করোনার টিকা নিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন। কোভিড টিকা বিতরণের আগে তার যথাযোগ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে নতুন প্রোটোকল ঠিক করছে কেন্দ্রীয় সরকার। কম তাপমাত্রায় টিকা সংরক্ষণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে একাধিক কোল্ড স্টোরেড হাব তৈরি হবে বলে খবর।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীগোষ্ঠীর বৈঠকে ডক্টর হর্ষবর্ধন বলেছেন, আগামী বছরের শুরু থেকেই দেশি ও বিদেশি কোম্পানিগুলি থেকে করোনার প্রতিষেধক পাওয়া যাবে দেশে। টিকার উৎপাদন ও বন্টন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি টিকার সংরক্ষণের জন্যও রূপরেখা তৈরি করছে বিশেষজ্ঞ কমিটি।
ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান ডক্টর ভিকে পাল বলেছেন, ভ্যাকসিনের উৎপাদন, বিতরণ এবং সংরক্ষণের জন্য আলাদা আলাদা টিম তৈরি হয়েছে। কোল্ড স্টোরেজের জন্য রাজ্যগুলিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দেশে এখন যতগুলি কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে তাদের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হচ্ছে। কী পরিমাণ টিকার ডোজ দেশের বাজারে আসতে পারে তার সম্ভাব্য পরিমাপ করে অতিরিক্ত কতগুলি কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করতে হবে তার ম্যাপিং করা হচ্ছে।
দেশে এখন করোনার ভ্যাকসিন দৌড়ে এগিয়ে আছে ভারত বায়োটেক, জাইদাস ক্যাডিলা ও সেরাম ইনস্টিটিউট। এর মধ্যে সেরাম অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় তৈরি তাদের কোভিশিল্ড টিকার তৃতীয় স্তরের ট্রায়াল শুরু করে দিয়েছে। পুণে, মুম্বইতে কোভিশিল্ড টিকার ট্রায়াল চলছে। ভারত বায়োটেকের টিকা কোভ্যাক্সিন পশুদের শরীরের বলিষ্ঠ রোগ প্রতিরোধ তৈরি করেছে বলে দাবি করেছেন ভাইরোলজিস্টরা। রেসাস প্রজাতির বাঁদরের শরীরে এই টিকার ডোজে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে বলেই দাবি। সেই সঙ্গে সক্রিয় হয়েছে টি-কোষও। কোভ্যাক্সিনের সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্টও বেশ ভাল।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ বলেছেন, টিকার ডোজ চলে এলে কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। সাধারণত হিমাঙ্কের নিচে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় টিকা সংরক্ষণ করার প্রয়োজন হয়। এয়ার ট্রান্সপোর্টের সময় রেফ্রিজারেটার না থাকলে কোল্ড আইসেও টিকা সংরক্ষণ করে নিয়ে আসা যায়। তবে সব ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির টিকার ফর্মুলা এক নয়। তাই টিকার ভায়াল কতদিন কোল্ড স্টোরেজে রাখতে হবে, কত তাড়াতাড়ি বিতরণ করতে হবে, তার একটা গাইডলাইন তৈরি করা প্রয়োজন। বেশিদিন টিকার ভায়াল কোল্ড স্টোরেজে রাখলে তার ডোজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া একবার ভায়ালের সিল খুললে তাকে ফের রেফ্রিারেটারে ঢোকানো সম্ভব নয়। তাই কী পরিমাণ ডোজ দেওয়া হবে সেটা আগে থেকেই ঠিক করে নেওয়া দরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব বলেছেন, কোন কোম্পানির টিকা কীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং তার বিতরণ কীভাবে হবে সেই সম্পর্কে গাইডলাইন তৈরি করছে ইলেকট্রনিক ভ্যাকসিন ইনটেলিজেন্স গ্রুপ। অক্টোবরের শেষেই নতুন প্রোটোকল তৈরি হয়ে যাবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।