বৈঠকে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, প্রযুক্তির ব্যবহার (AI-based security) এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।
শেষ আপডেট: 20 August 2025 20:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজভবনে (Governor) মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হল রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের (VCs' meeting) নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক (Higher Education)। রাজ্যপালের ডাকা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরাও। বৈঠকে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, প্রযুক্তির ব্যবহার (AI-based security) এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এদিন সোশ্যাল মাধ্যমে এক পোস্টে এ খবর জানিয়েছেন রাজ্যপাল। সেখানে রাজভবনের তরফে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করতে এআই নির্ভর মুখ চেনার প্রযুক্তি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও বাহিরের উপরে রাখা যাবে কড়া নজর। পাশাপাশি র্যাগিং-এর মতো সমস্যার দমনেও এটি কার্যকর হবে বলে মনে করছে শিক্ষা মহল।
অন্যদিকে, জনজাতি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক বিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব পেশ হয়েছে। একই সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চালু হবে বিশেষ হেল্পলাইন, যা অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে। সভায় শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ১২ দফা প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।
১৯.০৮.২০২৫ তারিখে কলকাতার রাজভবনে উপাচার্য সভা
রাজভবনে আয়োজিত উপাচার্য সভায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, সব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুখ চেনার ব্যবস্থা চালু হবে, যাতে…— Jana Raj Bhavan Media Cell (@BengalGovernor) August 20, 2025
যার মধ্যে রয়েছে:
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলির অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক প্রচার, শূন্যপদ ও পূরণকৃত পদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ, ডিজিটাল লেনদেন চালুর প্রস্তাব, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মহিলাদের প্রাকৃতিক চাষে উৎসাহ, জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-র বাস্তবায়ন, নতুন তিন ফৌজদারি আইন নিয়ে সচেতনতা, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া।
এছাড়াও সবুজ ক্যাম্পাস ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, উচ্চশিক্ষায় পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার, অধিভুক্ত কলেজের স্বীকৃতি প্রদানে নির্দিষ্ট সময়সীমা, সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা বিষয়ে প্রচারের ওপর জোর দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগের কথাও উঠে এসেছে আলোচনায়।
শিক্ষামহলের মতে, এই বৈঠক রাজ্যের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাস্তবায়নের রূপরেখা কেমন হয়, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে সকলে।