পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল (Governor Ananda Bose) এলেন, অনেকের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি হাত মেলালেন, চকোলেটও দিলেন।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 9 January 2026 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগেই জানিয়েছিলেন, কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করেই পথে নামবেন তিনি। কথা মতো এলেন, কথাও বললেন মানুষের সঙ্গে। কলকাতার অফিসপাড়া, ডেকার্স লেন তখন অতটাও কর্মব্যস্ত হয়ে ওঠেনি। কিছু মানুষ খাবার খাচ্ছেন, কিছু দোকানি নিজের কাজ থামিয়ে দাঁড়ালেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল (Governor Ananda Bose) এলেন, কথা বলার পাশাপাশি হাত মেলালেন, চকোলেটও দিলেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে খুনের হুমকি! ইমেলে আসে লোকভবনে (Governor Ananda Bose threat email)। আধিকারিকদের ইনবক্সে পৌঁছয় ওই মেসেজ, যেখানে স্পষ্টই লেখা, রাজ্যপালকে “উড়িয়ে দেওয়া হবে”।
বিষয়বস্তু পড়েই রাতেই নড়েচড়ে বসেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা (West Bengal Governor security। জরুরি বৈঠক ডাকেন, রাজ্যপালের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শুরু হয় তদন্তও। হুমকি মেলের বিষয়টি দ্রুত জানিয়ে দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে।
লোকভবন সূত্রের খবর, রাজ্যপালকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা নিয়ে ইতিমধ্যেই যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police security)ও সিআরপিএফ (CRPF security)। মাঝরাতেই শীর্ষদফতরে বৈঠকে বসেন নিরাপত্তা বাহিনীগুলির কর্তারা - সম্ভাব্য ঝুঁকি, তার মোকাবিলার কৌশল, সব দিকই বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে।
‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। রাজ্যপালকে লক্ষ্য করে এর আগেও বেশ কয়েকবার হুমকি এসেছে বলেই জানান লোকভবনের কর্তারা।
এমনই এক দিনে, যখন রাজ্যপাল রাস্তায় হাঁটার পরিকল্পনা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-ও নামছেন মিছিলে, যাদবপুর ৮বি থেকে হাজরা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার, গতকাল আইপ্যাকের কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশির (ED raid Pratik Jain) প্রতিবাদে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি আক্রমণ করেছেন ইডি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে। ফলে শুক্রবার শহরের দুই শীর্ষ প্রশাসনিক মুখ আলাদা পথে রাস্তায় নামলে চাপ বাড়বে পুলিশের কাঁধে।
ইডির তল্লাশি ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ঘিরে সমালোচনার সুর চড়িয়েছেন রাজ্যপালও। তাঁর কথায়, “সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়া অপরাধ। তাঁকে হুমকি দিয়ে বা আইনি পদক্ষেপের ভয় দেখিয়ে বিরত করা আরও গুরুতর অপরাধ। সংবিধানিক কর্তৃপক্ষ যদি সংবিধানের বাইরে যান, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”