.jpeg)
নওসাদ সিদ্দিকী।
শেষ আপডেট: 30 November 2024 21:46
সুমন বটব্যাল
ওয়াকফ নিয়ে কেন্দ্রের তৈরি সংশোধনী বিলকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শোরগোল তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, মুসলিমদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্যই এই বিল সংশোধনের চেষ্টা! এব্যাপারে এবার সরকারের বিরুদ্ধেই বড় অভিযোগ আনলেন নওসাদ সিদ্দিকী।
ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়কের দাবি, "ফুরফুরা শরিফের পীর সাহেবদের অনেকের সম্পত্তি সরকার দখল করে বসে আছে। আমার কাছে সেই নথিও আছে। সময় আসুক, সবটা সামনে আনব।"
ফুরফুরা শরিফের যারা হুজুর রয়েছেন তাঁরা নাকি অনেক সম্পত্তি দখল করে রয়েছেন বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সে কারণেই ওয়াকফের সংশোধনী বিল নিয়ে এত আপত্তি ফুরফুরা শরিফের। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়ায় সরকারের বিরুদ্ধেই ফুরফুরা শরিফের জমি দখল করে রাখার বড় অভিযোগ এনেছেন নওসাদ।
এও বলেন, "ফুরফুরা শরিফের অনেক পীর সাহেব মারা যাওয়ার আগে তাঁদের জমিতে যাঁরা বসবাস করতেন, তাঁদের নামে সেই সম্পত্তির দলিল পর্যন্ত করে দিয়ে গেছেন।"
তবে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে যে বিল রয়েছে তার কিছুটা সংশোধন প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেন তরুণ এই আইএসএফ বিধায়ক। নওসাদের কথায়, "এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক যে ওয়াকফ সম্পত্তি বলতে মানুষ শুধু বোঝে ইমাম ভাতা, মোয়াজ্জেম ভাতা। যাঁরা এটা তৈরি করেছিলেন তাঁদের লক্ষ্য ছিল শুধু ধর্মীয় কাজে নয়, সামাজিক কাজেও যেন এটি ব্য়বহৃত হয়। যেমন মহিলাদের বিবাহ, দরিদ্র ছেলেদের পড়াশোনায় অর্থ ব্যয় করা ইত্যাদি।"
এ প্রসঙ্গেই নওসাদ আরও বলেন, বিল আসুক, কিছু আপগ্রেডেশন করা হোক। সবকিছু ডিজিটাল করা হোক। আয়-ব্যয়ের হিসেব সময়ে দেওয়া হোক। একটা মুতওয়ালি ২০ বছর ধরে থাকবে, এ জিনিস বন্ধ হোক। এটা আমরাও চাই।
প্রসঙ্গত, ওয়াকফ নিয়ে কেন্দ্রের তৈরি সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রানি রাসমণিতে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলেমা। সেখান একই মঞ্চে পাশাপাশি দেখা গিয়েছিল সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, তহ্বা সিদ্দিকী, নওসাদ সিদ্দিকীদের। স্বার্থে আঘাত লেগেছে বলেই রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মতাদর্শের হয়েও তাঁরা একই মঞ্চে মিলিত হয়েছিলেন বলে কোনও কোনও মহলের অভিযোগ।
এ প্রসঙ্গে নওসাদের পাল্টা ব্যাখ্যা, "তামিলনাড়ু, কর্ণাটকে হিন্দু সমাজের যে সম্পত্তিগুলো রয়েছে সেখানে পুরোহিত তো ছেড়ে দিন কর্মচারী পর্যন্ত কেউ অহিন্দু হতে পারবে না। এটাই নিয়ম। তাহলে আমাদের বেলায় অন্য নিয়ম হবে কেন?"
বস্তুত ওয়াকফ ইস্যুতে শনিবার রানি রাসমণিতে দলের সংখ্যালঘু সেলের সমাবেশ মঞ্চ থেকে একই প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কল্যাণ বলেছেন, "কাশী বিশ্বনাথ মন্দির বা পুরীর মন্দিরের কমিটিতে শুধু হিন্দুরা থাকলে মুসলিমদের কমিটিতে কেন শুধু মুসলিম থাকবে না? আপনি বলতে পারেন, নিরপেক্ষতার কথা, তাহলে বিশ্বনাথ বা পুরীর মন্দিরে কমিটিতে হিন্দু ছাড়া অন্যদের রাখা হয়নি কেন? সংবিধান তো সেই অধিকার কাউকে কেড়ে নিতে বলেনি।"
নওসাদের কথায়, আসলে বিজেপির লক্ষ্য মেরুকরণ নিয়ে ভোট করা, মুসলমানদের আরও কোনঠাসা করার চেষ্টা করা। সেজন্যই এই বিল পাশ করানোর চেষ্টা। তবে বিজেপির সেই চেষ্টা কোনওদিনই পূরণ হবে না বলেও বেশ জোর গলায় দাবি করেছেন আইএসএফের তরুণ নেতা।