দ্য ওয়াল ব্যুরো : বাজেট ঘাটতি মেটাতে লাইফ ইনসিওরেন্স কর্পোরেশনের একাংশ বেচে ফেলার কথা ভাবছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একটি সূত্রে খবর, দেশের বৃহত্তম বিমা সংস্থা এলআইসি-র ২৫ শতাংশ শেয়ার বেচে ফেলার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন চাওয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থার একাংশ বিক্রি করার জন্য আইন সংশোধন করা হতে পারে। সেজন্য বিল আনা হবে সংসদে।
সম্ভবত কয়েক দফায় এলআইসি-র ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করা হবে। কখন বিক্রিও করা হবে, তা নির্ভর করবে বাজারের অবস্থার ওপরে। ব্লুমবার্গ নিউজ গত মাসে জানায়, কীভাবে এলআইসি-র শেয়ার বিক্রি করা হবে, তা স্থির করার জন্য সরকার ডিওলাইট টুচে তোহমাৎসু ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং এসবিআই ক্যাপিটাল মার্কেট লিমিটেডের থেকে পরামর্শ নিচ্ছে। ওই দুই সংস্থা এখন বিমা কোম্পানির ক্যাপিটাল স্ট্রাকচার খতিয়ে দেখছে। সরকার এলআইসি-র ২ হাজার শেয়ার ছাড়তে চায়। তার মোট মূল্য ২০ হাজার কোটি টাকা।
চলতি আর্থিক বছরে সম্ভবত সংকুচিত হতে চলেছে ভারতের অর্থনীতি। গত মে মাসে রেটিং এজেন্সি ক্রিসিল বলেছিল, চলতি আর্থিক বছরে ভারতের অর্থনীতি সংকুচিত হবে পাঁচ শতাংশ হারে। কিন্তু সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ওই সংস্থা জানিয়েছে, সংকোচন হবে আরও বেশি হারে। ভারতের অর্থনীতির বহর প্রায় নয় শতাংশ কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কয়েকদিন আগে ক্রিসিল থেকে ‘মাইনাস নাইন নাউ’ নামে একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, আগে ভারতের অর্থনীতি নিয়ে যে ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছিল, এখন তার সংশোধন করা হল। কারণ ভারতে কোভিড সংক্রমণ এখনও শীর্ষে পৌছায়নি। তাছাড়া সরকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য বড় কোনও আর্থিক ঘোষণাও করেনি। তাই অর্থনীতির যতদূর সংকোচন হবে বলে আগে আশঙ্কা করা হয়েছিল, বাস্তবে সংকুচিত হবে তার চেয়ে বেশি। একইসঙ্গে আশার কথা শুনিয়েছে ক্রিসিল। তাদের ধারণা, আগামী আর্থিক বছরে অর্থনীতির বিকাশ হবে ১০ শতাংশ।
চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ২৩.৯ শতাংশ। ক্রিসিল ভবিষ্যৎবাণী করেছিল, সংকোচন হবে ২৫ শতাংশ। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে অর্থনীতি ১২ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে ক্রিসিল মনে করে। গত জুলাই ও অগাস্ট মাসে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের কিছু উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তার পরেও মোটের ওপরে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অর্থনীতির বিকাশের হার ঋণাত্মক হবে বলে ক্রিসিল মনে করছে।
২০২২ সালের আগে অর্থনীতি প্রাক-কোভিড স্তরে পৌছবে বলে ক্রিসিল মনে করে না। তার পরেও তিন বছর ধরে বার্ষিক বিকাশ হবে ৬.২ শতাংশ হারে। করোনা অতিমহামারীর ফলে ভারতের জিডিপি-র মোট ১৩ শতাংশ ক্ষতি হবে বলে ক্রিসিল মনে করে। অর্থাৎ ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ লক্ষ কোটি টাকা। ক্রিসিলের রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রাক অতিমহামারী স্তরে ফিরে আসতে গেলে ভারতের অর্থনীতিকে আগামী তিন বছর বিকশিত হতে হবে ১৩ শতাংশ হারে। যা কার্যত অসম্ভব।