মার্কিন মুলুকে সমকামীদের জন্য প্রথম লড়েছিলেন মার্শা, পেরিয়েছে পাঁচ দশক, গুগলে আজ বিশেষ ডুডল তাঁর সম্মানে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় লিঙ্গবৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন লড়াই করা মার্শা পি জনসনকে সম্মান জানাতে বিশেষ ডুডল-পেজ তৈরি করল গুগল। গত বছরের আজকের দিনেই নিউ ইয়র্ক সিটির প্রাইড মার্চে মরণোত্তর স
শেষ আপডেট: 30 June 2020 02:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় লিঙ্গবৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন লড়াই করা মার্শা পি জনসনকে সম্মান জানাতে বিশেষ ডুডল-পেজ তৈরি করল গুগল। গত বছরের আজকের দিনেই নিউ ইয়র্ক সিটির প্রাইড মার্চে মরণোত্তর সম্মান পেয়েছিলেন মার্শা। স্থাপিত হয়েছিল তাঁর মূর্তি।
সেই বিশেষ দিনটিকেই নিজেদের হোমপেজে সমুজ্জ্বল করে তুলল গুগল। আক্ষরিক অর্থেই। এদিন হোমপেজ খুললেই দেখা যাচ্ছে, সাতরঙা উজ্জ্বল পটে হাসছে মার্শার এক হাতে আঁকা ছবি। ছবিতে ক্লিক করলেই পৌঁছে যাওয়া যাচ্ছে গুগল সার্চে। সেখানে সাজানো রয়েছে মার্শাকে নিয়ে হরেক তথ্য।
১৯৪৫ সালের ২৪ অগাস্ট নিউ জার্সির এলিজাবেশ শহরে জন্মেছিলেন মার্শা। স্কুলের পর্ব শেষ করে ১৯৬৩ সালে মার্শা এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবেন বলে চলে যান নিউ ইয়র্ক সিটির গ্রিনিচ গ্রামে। নিজের নাম পাল্টে রাখেন মার্শা পি জনসন। পি অক্ষরটি বহন করার একটি বিশেষ অর্থ ছিল মার্শার কাছে। মার্শা জানিয়েছিলেন, এই অক্ষরটি তাঁর লিঙ্গের পরিচয়। তিনি বলতে চান, "পে ইট নো মাইন্ড"। অর্থাৎ এটা নিয়ে মাথা ঘামিও না।

মার্শার জীবনের দর্শন ছিল, কোনও মানুষের লিঙ্গ কী, তা কারও পরিচয় হতে পারে না। একমাত্র পরিচয় হতে পারে তার কাজ, এবং সেই কাজের মাধ্যমেই বুঝে নিতে হবে অধিকার। লিঙ্গের কারণে বৈষম্যের শিকার না হওয়াও মানুষের প্রাথমিক অধিকারের মধ্যে পড়ে বলেই মনে করতেন তিনি।
১৯৬৯ সালের ২৮ জুন মার্শার নেতৃত্বে, সমকামী ও রূপান্তরকামী মানুষদের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ-প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল গ্রিনিচের স্টোনওয়াল নামের একটি জায়গা। জন্ম নিয়েছিল বিদ্রোহ। তৈরি হয়েছিল গে লিবারেশন ফ্রন্ট।

বস্তুত, মার্শা আমেরিকায় লিঙ্গবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন। পাশাপাশি তিনি নিজের বৈচিত্র্যপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অধিকারের কথাও তুলে ধরেছেন। একসময়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধেরও প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন মার্শা। শেষ পর্যন্ত, তাঁর এই লাগাতার আন্দোলন সরকারকে বাধ্য করে তাদের নীতি পরিবর্তন করতে। এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ সাম্য প্রতিষ্ঠা পায় নতুন আইনে, যা আজও এই মানুষগুলির লড়াইয়ে বিশেষ ভাবে সহায়ক।
১৯৯২ সালের ৬ জুলাই মারা গিয়েছেন মার্শা। এর পরে নিউ ইয়র্ক সিটিতে গত বছর মার্শার সম্মানে স্থাপিত হয়েছে প্রথম স্থায়ী ও সরকারি স্মৃতিস্তম্ভ।
আজকের গুগল ডুডলটি মার্শাকে সম্মান জানিয়ে এঁকেছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের অতিথি শিল্পী রব গিলিয়াম।