
শেষ আপডেট: 7 November 2023 19:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: এক সঙ্গে ৫০টি বগি নিয়ে ছুটতে পারে এমন এক অত্যাধুনিক ইঞ্জিন তৈরি হল চিত্তরঞ্জন রেল কারখানায়। বিহারের মাধেপুরার কারখানায় এই প্রথম ১২ হাজার হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন তৈরি হল। ফ্রান্সের ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা ''এলস্টর্ম''-এর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধলেও এই ইঞ্জিন তৈরি করতে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে অন্তত ৫০ টি ভর্তি ওয়াগান নিয়ে ছুটতে পারে এই ইঞ্জিন। মালগাড়ি টানার জন্যই এই ইঞ্জিনকে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক অমিত আগরওয়াল ।
তিনি বলেন, এই ইঞ্জিন তৈরি করার কৃতিত্ব অবশ্যই এখানকার কর্মী ও আধিকারিকদের। দেশে এটাই প্রথম ১২ হাজার হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন। পরবর্তীতে এই ধরনের আরও ন’টি ইঞ্জিন তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। আপাতত তাঁরা একটি ইঞ্জিন ভারতীয় রেলের হাতে তুলে দিয়েছেন। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ফ্রেট করিডরে এই ধরনের মালবাহী ইঞ্জিনের চাহিদা বাড়বে।
স্বাধীনতার পর দেশে প্রথম চিত্তরঞ্জনে রেল ইঞ্জিন কারখানা তৈরি হয় ১৯৫০ সালে। প্রথম বাষ্প চালিত ইঞ্জিন তৈরি হয়েছিল এখানেই। এবার দ্রুতগতির মালগাড়ির ইঞ্জিন তৈরি করে নতুন রেকর্ড গড়ল এই কারখানা। এর আগে ৬ হাজার ও ৯ হাজার হর্সপাওয়ারের রেল ইঞ্জিন তৈরি হয়েছিল এখানেই।
আইএনটিইউসির সাধারণ সম্পাদক নেতা ইন্দ্রজিৎ সিং বলেন, ''১২ হাজার হর্সপাওয়ারের রেল ইঞ্জিন তৈরি করার জন্য আমরা গর্বিত। গত বছর এপ্রিল মাসে আমি নিজে এক প্রতিনিধি দলকে নিয়ে ভারতীয় রেল বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তাঁদের বলেছিলাম অর্ডার পেলে এই কারখানাতে ১২ হাজার হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন আমরা তৈরি করতে পারব। বর্তমানে ফ্রান্সের কোম্পানি 'এলস্টর্ম'-এর সঙ্গে মিলে বিহারের মাধেপুরায় সেই ইঞ্জিনই তৈরি হল।''
চিত্তরঞ্জনের সিটুর সাধারণ সম্পাদক রাজীব গুপ্ত বলেন, ''আমরা বহুদিন ধরেই আমাদের অর্ডার দেওয়ার কথা বলে আসছিলাম। মাত্র এক মাসের মধ্যে এখানকার কর্মী ও আধিকারিকরা তা তৈরি করে তাঁদের দক্ষতা প্রমাণ করলেন। আরও ন’টি ইঞ্জিনও আমরা দ্রুত তৈরি করতে পারব।''