
শেষ আপডেট: 14 November 2023 13:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: পুজো হয়েছে জাঁকজমকে। কিন্তু বিসর্জনের আগেই তিনটি কালী মন্দিরে পরপর চুরি। খোয়া গেল সোনা-রুপোর গয়না সহ আরও অনেক কিছু। খবর জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ল ভাতারের ওড়গ্রামে। তদন্ত শুরু করেছে ভাতার থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওড়গ্রামের নতুনপাড়ায় বড়মার মন্দিরটি শতাব্দী প্রাচীন। সোমবার রাতে ওই মন্দিরে হানা দিয়ে বিগ্রহের সোনা-রুপোর গয়না হাতিয়ে পালিয়ে যায় চোরের দল। একইরাতে চুরি হয় বড়মার মন্দির থেকে কয়েকশো মিটার দূরে রায়পাড়ার ক্ষ্যাপামা মন্দিরেও। পাশের ছোটমার মন্দির থেকেও সোনার গয়না চুরি করে দুষ্কৃতীরা। ওড়গ্রামের নতুন পাড়ায় বড়মার পুজো পারিবারিক হলেও এক বছর পাল পরিবার ও দু'বছর ষোল আনার দ্বারা পুজো পরিচালনা হয়। এবছর পুজোর দায়িত্বে ছিল পাল পরিবার। প্রথা মেনে পুজোর আগে দেবীকে গয়না পরানো হয় এবং বিসর্জনের আগে তা খুলে রাখা হয়।
সোমবার সন্ধে থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। রাত বারোটা পর্যন্ত মন্দির সংলগ্ন এলাকায় লোকজন ছিল। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা লক্ষ্য করেন বিগ্রহের সমস্ত গয়না চুরি হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জ্বল বিষ্ণু বলেন, “বড়মার অঙ্গ থেকে প্রায় পাঁচ ভরি সোনার গয়না এবং ১০০ ভরি রূপোর গয়না চুরি গেছে।” ওড়গ্রামে রায়পাড়ায় ক্ষ্যাপামা মন্দিরেও ওই রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। মন্দিরের গেটে তালা দেওয়া ছিল। তালা ভেঙে লুঠপাট করে দুষ্কৃতীরা। বড়মা ও ক্ষ্যামামা কালী দু'টি প্রতিমার উচ্চতা ১৫ ফুটের কাছাকাছি। মই ব্যবহার করেই দুষ্কৃতীরা গয়না খুলে নেয় বলে অনুমান। বড়মার মন্দিরের সেবাইত শান্তি আঁকুড়ে রাতে মন্দিরেই শুয়েছিলেন। তিনি জানান, সকালে নজরে আসে দেবী প্রতিমার অঙ্গ থেকে রুপোর মুকুট, সোনার হার খুলে নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। তাঁর অনুমান, তাকে গ্যাস জাতীয় কিছু স্প্রে করা হয়েছিল। তাতেই তাঁর ঘুম ভাঙেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা রবি রায় জানান, ক্ষ্যাপামার মন্দির থেকে প্রায় ১৫ ভরি সোনার গয়না ও ১০০ ভরি রুপোর সাজ চুরি গেছে। পাশের ছোটমার মন্দির থেকেও বেশ কিছু গয়না চুরি গেছে। তিনটি মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা।